মধ্যপ্রাচ্যের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির আঁচ এবার সরাসরি পড়ছে ভারতীয়দের ওপর। ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে জারি থাকা সংঘাতের জেরে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন ইরানে পাঠরত হাজার হাজার ভারতীয় ছাত্রছাত্রী। এই সংকটের মাঝেই নয়াদিল্লির সংসদীয় বৈঠকে ভারতীয়দের উদ্ধার ও নিরাপত্তা নিয়ে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেশ করল বিদেশমন্ত্রক।
সরকারি হিসেব অনুযায়ী, বর্তমানে ইরানে প্রায় ৯ হাজার ভারতীয় পড়ুয়া রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বড় একটি অংশই সেখানে চিকিৎসাবিদ্যা (MBBS) নিয়ে পড়াশোনা করছেন। পরিস্থিতি বিচার করে ইতিমধ্যেই প্রায় ১ হাজার ছাত্র দ্রুত দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে পাঠক্রমের গুরুত্ব ও পরীক্ষার কারণে অনেকেই এখনই ফিরতে পারছেন না বলে জানা গিয়েছে। ইতিমত্যে ২ লক্ষ ৪৪ হাজার ভারতীয় আরব দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেশে ফিরেছেন।
বিদেশমন্ত্রক আশ্বস্ত করেছে যে, ইরানে থাকা ভারতীয়দের নিরাপদে সরিয়ে আনতে সবরকম বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রয়োজন পড়লে প্রতিবেশী দেশগুলোর মাধ্যমে তাঁদের ফেরানোর জন্য ‘ব্যাক-আপ প্ল্যান’ তৈরি রেখেছে কেন্দ্র। তবে বৈঠকে বিদেশসচিব উপস্থিত না থাকায় কিছু প্রশ্নের উত্তর পরে লিখিতভাবে জানানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
যুদ্ধের প্রভাবে বর্তমানে ভারতের ২২টি জাহাজ আটকে রয়েছে বলে খবর। তবে কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। ভারতের শোধনাগারগুলি পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করছে, তাই আপাতত পেট্রোল-ডিজেলের জোগান নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ নেই।
বিরোধী পক্ষ থেকে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মৃত্যু নিয়ে ভারতের কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া জানাতে দেরি হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও, সরকার জানিয়েছে পরিস্থিতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পড়ুয়াদের নিরাপত্তা এবং দেশের জ্বালানি সুরক্ষা— এই দুই বিষয়কেই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সাউথ ব্লক।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন