Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

বঙ্গভোটে জোট বদলের রাজনীতি, বাংলাদেশের উদাহরণে নতুন করে চর্চা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৬
বঙ্গভোটে জোট বদলের রাজনীতি, বাংলাদেশের উদাহরণে নতুন করে চর্চা

কলকাতা: রাজনীতিতে স্থায়ী বন্ধু বা শত্রু বলে কিছু নেই—এই পুরনো কথাটাই যেন নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। একদা জোটসঙ্গী আজ প্রধান প্রতিপক্ষ—এই পরিবর্তিত সমীকরণ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই আলোচনায় উঠে আসছে বাংলাদেশের রাজনীতির অভিজ্ঞতাও।


বাংলাদেশে দীর্ঘদিন Bangladesh Nationalist Party (বিএনপি)-র জোটসঙ্গী ছিল Jamaat-e-Islami Bangladesh। সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্কের পরিবর্তন ঘটে এবং রাজনৈতিক অবস্থান বদলে যায়। পশ্চিমবঙ্গেও অনুরূপভাবে একসময় জোটে থাকা Bharatiya Janata Party (বিজেপি) এবং All India Trinamool Congress (তৃণমূল কংগ্রেস) এখন রাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি।

এই পরিবর্তনের শিকড় খুঁজতে গেলে ফিরে তাকাতে হয় ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দিকে। সেই সময় বামফ্রন্ট, নেতৃত্বে Buddhadeb Bhattacharjee, ছিল অপ্রতিরোধ্য শক্তি। নির্বাচনে বামেরা ২৩৫টি আসন পায়। তৃণমূল কংগ্রেস ২৫৭টি আসনে লড়ে জেতে মাত্র ৩০টি আসন। বিজেপি ২৯টি আসনে প্রার্থী দিয়েও খাতা খুলতে পারেনি। সেই সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা বোঝাতে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মন্তব্য—“আমরা ২৩৫, ওরা ৩০”—আজও প্রাসঙ্গিক উদাহরণ হিসেবে উঠে আসে।

তখনকার রাজনৈতিক সমীকরণ আজকের থেকে একেবারেই আলাদা ছিল। Mamata Banerjee-র নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস সে সময় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের শরিক ছিল। বামফ্রন্টকে ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্যেই এই জোট গড়ে ওঠে। সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় বিজেপির শীর্ষ নেতা Rajnath Singh-কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনশন মঞ্চে দেখা যায়, যা সেই সময়কার রাজনৈতিক বোঝাপড়ারই প্রতিফলন।

২০০৬ সালের নির্বাচনে বামফ্রন্টের বিপুল জয়ের অন্যতম কারণ ছিল বিরোধী ভোটের বিভাজন। কংগ্রেস আলাদাভাবে নির্বাচনে লড়ায়, তৃণমূল তখন সংগঠন মজবুত করার পর্যায়ে এবং বিজেপির উপস্থিতিও সীমিত ছিল। ফলে বাম-বিরোধী ভোট ভাগ হয়ে যায় এবং তার সুবিধা পায় বামফ্রন্ট।


পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলায়। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এসে দীর্ঘ বাম শাসনের অবসান ঘটায়। অন্যদিকে, বিজেপি ধীরে ধীরে নিজেদের শক্তি বাড়িয়ে বিশেষ করে ২০১৪ সালের পর থেকে রাজ্যে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসে। বর্তমানে তৃণমূল বনাম বিজেপি—এই দ্বৈরথই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির মূল কেন্দ্র।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের রাজনীতির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিল রয়েছে—জোটসঙ্গী থেকে প্রধান বিরোধী শক্তিতে রূপান্তর এবং সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন। এই প্রেক্ষাপটই প্রমাণ করে, রাজনীতিতে স্থায়ী সমীকরণ বলে কিছু নেই; পরিস্থিতি, কৌশল এবং সময়—এই তিনের ওপর নির্ভর করেই সম্পর্ক তৈরি হয় এবং ভেঙে যায়।


আসন্ন বঙ্গভোটের প্রেক্ষাপটে এই পরিবর্তিত সমীকরণ কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

বিষয় : India WestBengalElection Bangladesh

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


বঙ্গভোটে জোট বদলের রাজনীতি, বাংলাদেশের উদাহরণে নতুন করে চর্চা

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মার্চ ২০২৬

featured Image
কলকাতা: রাজনীতিতে স্থায়ী বন্ধু বা শত্রু বলে কিছু নেই—এই পুরনো কথাটাই যেন নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। একদা জোটসঙ্গী আজ প্রধান প্রতিপক্ষ—এই পরিবর্তিত সমীকরণ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই আলোচনায় উঠে আসছে বাংলাদেশের রাজনীতির অভিজ্ঞতাও।বাংলাদেশে দীর্ঘদিন Bangladesh Nationalist Party (বিএনপি)-র জোটসঙ্গী ছিল Jamaat-e-Islami Bangladesh। সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্কের পরিবর্তন ঘটে এবং রাজনৈতিক অবস্থান বদলে যায়। পশ্চিমবঙ্গেও অনুরূপভাবে একসময় জোটে থাকা Bharatiya Janata Party (বিজেপি) এবং All India Trinamool Congress (তৃণমূল কংগ্রেস) এখন রাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি।এই পরিবর্তনের শিকড় খুঁজতে গেলে ফিরে তাকাতে হয় ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দিকে। সেই সময় বামফ্রন্ট, নেতৃত্বে Buddhadeb Bhattacharjee, ছিল অপ্রতিরোধ্য শক্তি। নির্বাচনে বামেরা ২৩৫টি আসন পায়। তৃণমূল কংগ্রেস ২৫৭টি আসনে লড়ে জেতে মাত্র ৩০টি আসন। বিজেপি ২৯টি আসনে প্রার্থী দিয়েও খাতা খুলতে পারেনি। সেই সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা বোঝাতে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মন্তব্য—“আমরা ২৩৫, ওরা ৩০”—আজও প্রাসঙ্গিক উদাহরণ হিসেবে উঠে আসে।তখনকার রাজনৈতিক সমীকরণ আজকের থেকে একেবারেই আলাদা ছিল। Mamata Banerjee-র নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস সে সময় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের শরিক ছিল। বামফ্রন্টকে ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্যেই এই জোট গড়ে ওঠে। সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় বিজেপির শীর্ষ নেতা Rajnath Singh-কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনশন মঞ্চে দেখা যায়, যা সেই সময়কার রাজনৈতিক বোঝাপড়ারই প্রতিফলন।২০০৬ সালের নির্বাচনে বামফ্রন্টের বিপুল জয়ের অন্যতম কারণ ছিল বিরোধী ভোটের বিভাজন। কংগ্রেস আলাদাভাবে নির্বাচনে লড়ায়, তৃণমূল তখন সংগঠন মজবুত করার পর্যায়ে এবং বিজেপির উপস্থিতিও সীমিত ছিল। ফলে বাম-বিরোধী ভোট ভাগ হয়ে যায় এবং তার সুবিধা পায় বামফ্রন্ট।পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলায়। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এসে দীর্ঘ বাম শাসনের অবসান ঘটায়। অন্যদিকে, বিজেপি ধীরে ধীরে নিজেদের শক্তি বাড়িয়ে বিশেষ করে ২০১৪ সালের পর থেকে রাজ্যে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসে। বর্তমানে তৃণমূল বনাম বিজেপি—এই দ্বৈরথই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির মূল কেন্দ্র।বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের রাজনীতির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিল রয়েছে—জোটসঙ্গী থেকে প্রধান বিরোধী শক্তিতে রূপান্তর এবং সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন। এই প্রেক্ষাপটই প্রমাণ করে, রাজনীতিতে স্থায়ী সমীকরণ বলে কিছু নেই; পরিস্থিতি, কৌশল এবং সময়—এই তিনের ওপর নির্ভর করেই সম্পর্ক তৈরি হয় এবং ভেঙে যায়।আসন্ন বঙ্গভোটের প্রেক্ষাপটে এই পরিবর্তিত সমীকরণ কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার