ঈদ মানেই আনন্দ, জমিয়ে খাওয়া-দাওয়া আর নতুন পোশাক। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলাচ্ছে এই উদযাপনের ধরন। এখন অনেকেই শুধু ঐতিহ্য মেনে চলছেন না, বরং নিজের শরীর, আরাম আর স্টাইল—সবকিছুর মধ্যে একটা ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছেন। তাই ঈদের খাবার ও পোশাক—দুটোতেই এসেছে নতুন চিন্তাভাবনা।
প্রথমেই খাবারের কথা বলা যাক। ঈদের দিন সকালে নামাজের পর সাধারণত সেমাই বা শির খুরমা খাওয়ার চল রয়েছে। তবে এখন অনেকেই কম চিনি দিয়ে হালকা করে এই খাবার বানাচ্ছেন। সঙ্গে থাকছে খেজুর, ফল বা দুধ—যা শরীরকে দিনভর এনার্জি দেয়।
দুপুরের খাওয়ায় পোলাও, মাটন বা চিকেন কোরমা, কাবাব—এসব তো থাকছেই। তবে বাড়তি তেল-ঝাল এড়িয়ে চলার প্রবণতা বাড়ছে। অনেকেই এখন গ্রিলড বা কম তেলে রান্না করা খাবার রাখছেন মেনুতে। সঙ্গে সালাদ বা দই রাখলে হজমও ভালো হয়। মিষ্টির ক্ষেত্রেও অনেকে পরিমাণ কমাচ্ছেন বা বিকল্প হিসেবে হালকা ডেজার্ট বেছে নিচ্ছেন।
পোশাকের ক্ষেত্রেও একইভাবে দেখা যাচ্ছে বদল। আগে যেখানে ভারী কাজের জামাকাপড় বেশি জনপ্রিয় ছিল, এখন সেখানে আরামদায়ক ও হালকা পোশাকের চাহিদা বেড়েছে। মেয়েদের মধ্যে আনারকলি, সালোয়ার কামিজ বা হালকা শাড়ি বেশ জনপ্রিয়। প্যাস্টেল রং, ফ্লোরাল ডিজাইন—এসব এখন ট্রেন্ডে।
অন্যদিকে ছেলেদের মধ্যে কটন বা লিনেনের পাঞ্জাবি-পায়জামা বেশ পছন্দের হয়ে উঠেছে। কেউ কেউ আবার কুর্তার সঙ্গে জিন্স মিলিয়ে ফিউশন লুকও বেছে নিচ্ছেন। গরমের কথা মাথায় রেখে হালকা রং ও আরামদায়ক কাপড়ই এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ঈদের এই নতুন লাইফস্টাইল ট্রেন্ডে একটা বিষয় পরিষ্কার—এখন মানুষ শুধু দেখানোর জন্য নয়, নিজের আরাম আর স্বাস্থ্যের কথা ভেবেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। কম খাওয়া নয়, বরং ঠিকভাবে খাওয়া; বেশি সাজ নয়, বরং স্বাচ্ছন্দ্য—এই ধারণাই ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন