কলকাতা: আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে লিফটে আটকে পড়ে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে রাজ্য প্রশাসন। শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সরাসরি স্থানীয়স্তরে প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নজরদারির অভাবের কথা মেনে নিলেন স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক তথা হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির সদস্য অতীন ঘোষ। এই ঘটনায় ইতিমধেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
দমদমের বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর চার বছরের সন্তানের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসেছিলেন। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী। অভিযোগ, পাঁচতলা থেকে নামার সময় লিফটটি প্রবল ঝাঁকুনি দিয়ে নীচে হুড়হুড়িয়ে নেমে যায়। এরপর দীর্ঘ দেড় থেকে দু’ঘণ্টা সেখানে আটকে থাকেন অরূপবাবু, তাঁর স্ত্রী ও একরত্তি শিশু সন্তান। এই সময় পরিবারের বারবার আকুতি সত্ত্বেও যথার্থ সাহায্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ। যার জেরে শেষ পর্যন্ত অরূপের প্রাণ যায়। বাকি দু'জনকে অবশ্য জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এই ঘটনার পর থেকেই হাসপাতালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
শুক্রবার সকালেই আর জি করে যান অতীন ঘোষ। তিনি স্পষ্ট জানান, স্থানীয়স্তরে প্রশাসনের ব্যর্থতা ঢাকা দেওয়ার কোনও জায়গা নেই। আগামী সোমবার রোগীকল্যাণ সমিতির জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লিফট রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা পূর্ত দফতর এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এজেন্সির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
এদিকে, কলকাতা পুলিশের ডিসি (উত্তর) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই লিফটম্যান-সহ নিরাপত্তা ও নজরদারির দায়িত্বে থাকা বেশ কয়েকজনকে থানায় তলব করা হয়েছে। কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির বা সংস্থার গাফিলতি প্রমাণিত হলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
২০২৪ সালের অগস্টে ঘটে যাওয়া আর জি কর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার স্মৃতি আজও মানুষের স্মৃতিতে টাটকা। তার মধ্যেই আবারও পরিকাঠামো নিয়ে আর জি করের শিরোনামে চলে আসা বিধানসভা নির্বাচনের আগে শাসকদলের উপর চাপ বাড়াল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বিষয় : RG KAR CASE RG Kar Lift Case

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন