বিশ্বজুড়ে ঘনিয়ে আসছে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট। ইরান ও ইজরায়েল সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস ফিল্ডগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতসহ গোটা বিশ্বে। বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি (LNG) উৎপাদনকারী দেশ কাতার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে তারা নতুন কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি নিতে পারবে না। ফলে ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর বড়সড় বিপদের খাঁড়া ঝুলছে।
কাতার এনার্জির সিইও তথা শক্তি প্রতিমন্ত্রী সাদ আল-কাবি জানিয়েছেন, ইরানের হামলায় কাতারের লিকুইফাইড ন্যাচরাল গ্যাস রফতানি ক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। এর ফলে বার্ষিক আয়ের দিক থেকে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশটি। এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতি মেরামত করে পুনরায় আন্তর্জাতিক বাজারে ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোতে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারত ইতিমধ্যেই কাতার ছেড়ে আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে এলএনজি আনার তোড়জোড় শুরু করেছে। কিন্তু এই দীর্ঘ সমুদ্রপথের বিপুল পরিবহন খরচের জেরে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি সূত্র মারফত খবর, ভারত বর্তমানে বিতর্কিত হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে প্রায় ৭০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানির চেষ্টা চালাচ্ছে।
অভ্যন্তরীণ সংকট এড়াতে দেশের তেল ও গ্যাস সংস্থাগুলোর ওপর কড়া নজরদারি শুরু করেছে সরকার। প্রতিদিন কত পরিমাণ তেল মজুত আছে, কতটা রিফাইন করা হচ্ছে এবং ব্যবহারের পরিসংখ্যান কী— তার খুঁটিনাটি তথ্য সরকারকে নিয়মিত জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৯ ডলারে পৌঁছেছে। সৌদি আরবের হুঁশিয়ারি, যদি যুদ্ধ না থামে তবে এই দাম ১৮০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। অন্যদিকে, এলএনজির দাম যুদ্ধের আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ১০-১২ ডলার থেকে বেড়ে ২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন