Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

তিনটি প্রাণ ছটফট করছিল, আর লিফটম্যানরা ‘ব্যস্ত ছিলেন গান শুনতে’! আর জি কর কাণ্ডে আদালতে বিস্ফোরক তথ্য পেশ পুলিশের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০২৬
তিনটি প্রাণ ছটফট করছিল, আর লিফটম্যানরা ‘ব্যস্ত ছিলেন গান শুনতে’! আর জি কর কাণ্ডে আদালতে বিস্ফোরক তথ্য পেশ পুলিশের

কলকাতা: আর জি কর হাসপাতালের ‘খুনি’ লিফটে আটকে অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ঘটনায় উঠে এল এক শিউরে ওঠার মতো তথ্য। সেই অনুসারে, যখন লিফটের ভিতর স্ত্রী-সন্তানসহ অরূপ বাঁচার জন্য আর্তনাদ করছিলেন, তখন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা মগ্ন ছিলেন গানের জগতে! শনিবার শিয়ালদহ আদালতে ধৃত পাঁচজনকে পেশ করে এমনটাই দাবি করেছে পুলিশ। কর্তব্যে চরম গাফিলতির এই বয়ান শুনে স্তম্ভিত হয়ে যান আদালত কক্ষে উপস্থিত সকলে।


শুক্রবার ভোরে আর জি করের ট্রমা কেয়ার বিল্ডিংয়ে ৪ বছরের অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে লিফটে উঠেছিলেন দমদমের অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়। যান্ত্রিক ত্রুটিতে লিফটটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়লে তাঁর স্ত্রী ও সন্তান কোনওক্রমে বেরোতে পারলেও, লিফট ও ফ্লোরের মাঝে পিষ্ট হন অরূপ। ময়নাতদন্ত বলছে, শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ ফেটে মৃত্যু হয়েছে তাঁর।


আদালতে পুলিশ জানায়, লিফটের ভিতর যখন অরূপ ও তাঁর স্ত্রী বাঁচার জন্য চিৎকার করছিলেন, তখন সেখানে কোনও লিফটম্যান ছিলেন না। যে তিনজন লিফটম্যান (মিলনকুমার দাস, বিশ্বনাথ দাস ও মানসকুমার গুহ) এবং দুই নিরাপত্তারক্ষীকে (আশরফউল রহমান ও শুভদীপ দাস) গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁরা সেই সময় গানে বুঁদ হয়েছিলেন! ফলে তিনটি প্রাণের সেই মরণ-আর্তনাদ তাঁদের কান পর্যন্ত পৌঁছায়নি।


ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়া বাবা অমল বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সংবাদমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর প্রশ্ন, "লিফটের পাশে লিফটম্যান ও সুপারভাইজারের নম্বর লেখা থাকে। অথচ, বিপদের সময় কাউকে ফোন করা গেল না কেন? একটা সরকারি হাসপাতালে লিফটম্যান নেই, কেউ নেই — এ তো পুরোপুরি প্রশাসনিক ব্যর্থতা।"


যদিও আর জি করের সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় স্বীকার করে নিয়েছেন, লিফটম্যান থাকলে এই দুর্ঘটনা ঘটত না। তবে, হাসপাতালের ৩২টি লিফটে সবসময় নজরদারি চালানো নিয়ে যে খামতি ছিল, তা পরোক্ষভাবে মেনে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


শনিবারই আর জি করের ঘটনাস্থলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেছে ফরেনসিক দল। টালা থানার থেকে তদন্তভার এখন লালবাজারের গোয়েন্দা পুলিশের হাতে। এদিন আদালতে মৃতের পরিবারের আইনজীবীরা সওয়াল করেন, ধৃত পাঁচজন ছাড়াও আরও অনেকে এই গাফিলতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁদেরও তদন্তের আওতায় আনা হোক।


উভয়পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে শিয়ালদহ আদালত ধৃতদের আগামী ২৭ মার্চ পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। গানের নেশায় বুঁদ হয়ে কর্তব্যে অবহেলা — আর কত প্রাণ গেলে টনক নড়বে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের! এখন সেই প্রশ্নই তুলছে সাধারণ মানুষ।

বিষয় : RG KAR CASE RG Kar Lift Case

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


তিনটি প্রাণ ছটফট করছিল, আর লিফটম্যানরা ‘ব্যস্ত ছিলেন গান শুনতে’! আর জি কর কাণ্ডে আদালতে বিস্ফোরক তথ্য পেশ পুলিশের

প্রকাশের তারিখ : ২১ মার্চ ২০২৬

featured Image
কলকাতা: আর জি কর হাসপাতালের ‘খুনি’ লিফটে আটকে অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ঘটনায় উঠে এল এক শিউরে ওঠার মতো তথ্য। সেই অনুসারে, যখন লিফটের ভিতর স্ত্রী-সন্তানসহ অরূপ বাঁচার জন্য আর্তনাদ করছিলেন, তখন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা মগ্ন ছিলেন গানের জগতে! শনিবার শিয়ালদহ আদালতে ধৃত পাঁচজনকে পেশ করে এমনটাই দাবি করেছে পুলিশ। কর্তব্যে চরম গাফিলতির এই বয়ান শুনে স্তম্ভিত হয়ে যান আদালত কক্ষে উপস্থিত সকলে।শুক্রবার ভোরে আর জি করের ট্রমা কেয়ার বিল্ডিংয়ে ৪ বছরের অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে লিফটে উঠেছিলেন দমদমের অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়। যান্ত্রিক ত্রুটিতে লিফটটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়লে তাঁর স্ত্রী ও সন্তান কোনওক্রমে বেরোতে পারলেও, লিফট ও ফ্লোরের মাঝে পিষ্ট হন অরূপ। ময়নাতদন্ত বলছে, শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ ফেটে মৃত্যু হয়েছে তাঁর।আদালতে পুলিশ জানায়, লিফটের ভিতর যখন অরূপ ও তাঁর স্ত্রী বাঁচার জন্য চিৎকার করছিলেন, তখন সেখানে কোনও লিফটম্যান ছিলেন না। যে তিনজন লিফটম্যান (মিলনকুমার দাস, বিশ্বনাথ দাস ও মানসকুমার গুহ) এবং দুই নিরাপত্তারক্ষীকে (আশরফউল রহমান ও শুভদীপ দাস) গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁরা সেই সময় গানে বুঁদ হয়েছিলেন! ফলে তিনটি প্রাণের সেই মরণ-আর্তনাদ তাঁদের কান পর্যন্ত পৌঁছায়নি।ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়া বাবা অমল বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সংবাদমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর প্রশ্ন, "লিফটের পাশে লিফটম্যান ও সুপারভাইজারের নম্বর লেখা থাকে। অথচ, বিপদের সময় কাউকে ফোন করা গেল না কেন? একটা সরকারি হাসপাতালে লিফটম্যান নেই, কেউ নেই — এ তো পুরোপুরি প্রশাসনিক ব্যর্থতা।"যদিও আর জি করের সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় স্বীকার করে নিয়েছেন, লিফটম্যান থাকলে এই দুর্ঘটনা ঘটত না। তবে, হাসপাতালের ৩২টি লিফটে সবসময় নজরদারি চালানো নিয়ে যে খামতি ছিল, তা পরোক্ষভাবে মেনে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।শনিবারই আর জি করের ঘটনাস্থলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেছে ফরেনসিক দল। টালা থানার থেকে তদন্তভার এখন লালবাজারের গোয়েন্দা পুলিশের হাতে। এদিন আদালতে মৃতের পরিবারের আইনজীবীরা সওয়াল করেন, ধৃত পাঁচজন ছাড়াও আরও অনেকে এই গাফিলতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁদেরও তদন্তের আওতায় আনা হোক।উভয়পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে শিয়ালদহ আদালত ধৃতদের আগামী ২৭ মার্চ পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। গানের নেশায় বুঁদ হয়ে কর্তব্যে অবহেলা — আর কত প্রাণ গেলে টনক নড়বে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের! এখন সেই প্রশ্নই তুলছে সাধারণ মানুষ।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার