প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র কলকাতার সভা থেকে ফেরার পথে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার শিকার হলেন উত্তরবঙ্গের এক বিজেপি কর্মী। ভুল ট্রেনে উঠে বিহারে পৌঁছে যাওয়ায় তাঁকে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে স্থানীয় মানুষজন মারধর করে বলে অভিযোগ।
আহত ওই ব্যক্তির নাম সোমনাথ বর্মন। তিনি আলিপুরদুয়ার জেলার কুমারগ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় দিনমজুর। জানা গিয়েছে, কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড-এ অনুষ্ঠিত মোদির সভায় যোগ দিতে তিনি উত্তরবঙ্গ থেকে এসেছিলেন। সভা শেষে বাড়ি ফেরার সময় হাওড়া স্টেশনে সহযাত্রীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এরপর তাড়াহুড়োয় ভুল ট্রেনে উঠে বসেন।
পরে বুঝতে পেরে বিহারের কিষাণগঞ্জ স্টেশনে নামেন সোমনাথ। সেখানেই বিপদ নেমে আসে। স্থানীয় কিছু মানুষ তাঁকে ছেলেধরা সন্দেহে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে ওঠে যে তাঁর প্রাণ সংশয় দেখা দেয়।
খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে। আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে প্রায় তিন দিন পুলিশ হেফাজতেই রাখা হয় নিরাপত্তার কারণে। এরপর পুলিশই তাঁকে ট্রেনে তুলে বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করে।
বাড়ি ফিরে এখনও আতঙ্কে রয়েছেন সোমনাথ। তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন, কাটাছেঁড়া ও কালশিটে দাগ রয়েছে। তিনি জানান, “আমি এখনও শারীরিকভাবে দুর্বল। হঠাৎ করে যা ঘটেছে, সেটা খুবই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা।” তবে তিনি আরও বলেন , স্থানীয় বিজেপি নেতা চিকিৎসার জন্য ১৫০০ টাকা দিয়েছেন।
এই ঘটনার পর আবারও ভিনরাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বহুদিন ধরেই অভিযোগ, বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে হেনস্থা করা হয়। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগেও এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। এবারও এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তীব্র হয়েছে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন