Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

আরজি কর: অব্যবস্থার ‘ট্রমা’ কাটছেই না! স্ট্রেচার না পেয়ে হেঁটে শৌচালয়ে যাওয়ার পথেই রোগীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০২৬
আরজি কর: অব্যবস্থার ‘ট্রমা’ কাটছেই না! স্ট্রেচার না পেয়ে হেঁটে শৌচালয়ে যাওয়ার পথেই রোগীর মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

কলকাতা: তিলোত্তমা কাণ্ডের দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও আরজি কর হাসপাতালের পরিকাঠামো ও পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভের আগুন যেন কিছুতেই নিভছে না। গত শুক্রবার লিফ্‌ট দুর্ঘটনায় মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই, এবার ট্রমা কেয়ার সেন্টারে এক শ্বাসকষ্টের রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি। অভিযোগের তির সেই একই দিকে— চরম অব্যবস্থা এবং মানবিকতার অভাব।

মৃত রোগীর নাম বিশ্বজিৎ সামন্ত। পরিবার সূত্রে খবর, প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট এবং নাক দিয়ে রক্তপাতের সমস্যা নিয়ে তিনি আরজি করে ভর্তি হয়েছিলেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর রক্ত পড়া বন্ধ হলেও শরীরে অস্বস্তি ছিল। রাতে তিনি শৌচালয়ে যেতে চাইলে অভিযোগ ওঠে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো স্ট্রেচারের ব্যবস্থা করেনি। বাধ্য হয়ে অসুস্থ শরীর নিয়ে হেঁটে দোতলার শৌচালয়ে যেতে গিয়ে অচৈতন্য হয়ে পড়েন তিনি। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মৃতের স্ত্রী ইলা সামন্ত কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, "অসুস্থ মানুষকে কেউ এভাবে হাঁটিয়ে নিয়ে যেতে বলে? একটা স্ট্রেচার পর্যন্ত দেয়নি কেউ!" একই সুর শোনা গেল ছেলে বিশালের গলাতেও। তাঁর আক্ষেপ, "মানুষ আশা নিয়ে আরজি করে আসে, কিন্তু এখানে সুস্থ মানুষও অব্যবস্থায় মারা যাচ্ছে।" যদিও হাসপাতাল সূত্রের দাবি, ট্রমা কেয়ারেই শৌচালয় আছে, তবুও কেন তাঁকে বাইরে যেতে বলা হলো তা নিয়ে রহস্য দানা বাঁধছে।

গত শুক্রবারই এই ট্রমা কেয়ারের লিফ্‌টে আটকে মৃত্যু হয়েছিল দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেখানেও মূল সমস্যা ছিল হাতের কাছে শৌচালয় না থাকা। তিন বছরের ছেলের শৌচালয়ের প্রয়োজনে লিফ্‌ট ব্যবহার করতে গিয়ে যান্ত্রিক ত্রুটির বলি হন তিনি। দুই দিনের ব্যবধানে একই পরিকাঠামোগত ত্রুটির কারণে দুটি প্রাণ চলে যাওয়া প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।


২০২৪-এর অগস্টে আরজি করের নির্যাতিতা চিকিৎসকের ঘটনার পর হাসপাতালের নিরাপত্তা ও পরিষেবা নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল গোটা দেশ। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ক্ষত আবার দগদগে হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যখন নির্যাতিতার মা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে লড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, তখন হাসপাতালের এই বারবার ঘটে চলা দুর্ঘটনা বিষয়টিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

ঘটনায় টালা থানা অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। প্রশ্ন একটাই— আর কত প্রাণ গেলে হুঁশ ফিরবে কর্তৃপক্ষের?

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : KolkataNews RGKar MedicalNegligence

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


আরজি কর: অব্যবস্থার ‘ট্রমা’ কাটছেই না! স্ট্রেচার না পেয়ে হেঁটে শৌচালয়ে যাওয়ার পথেই রোগীর মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ২৩ মার্চ ২০২৬

featured Image
কলকাতা: তিলোত্তমা কাণ্ডের দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও আরজি কর হাসপাতালের পরিকাঠামো ও পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভের আগুন যেন কিছুতেই নিভছে না। গত শুক্রবার লিফ্‌ট দুর্ঘটনায় মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই, এবার ট্রমা কেয়ার সেন্টারে এক শ্বাসকষ্টের রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি। অভিযোগের তির সেই একই দিকে— চরম অব্যবস্থা এবং মানবিকতার অভাব।মৃত রোগীর নাম বিশ্বজিৎ সামন্ত। পরিবার সূত্রে খবর, প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট এবং নাক দিয়ে রক্তপাতের সমস্যা নিয়ে তিনি আরজি করে ভর্তি হয়েছিলেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর রক্ত পড়া বন্ধ হলেও শরীরে অস্বস্তি ছিল। রাতে তিনি শৌচালয়ে যেতে চাইলে অভিযোগ ওঠে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো স্ট্রেচারের ব্যবস্থা করেনি। বাধ্য হয়ে অসুস্থ শরীর নিয়ে হেঁটে দোতলার শৌচালয়ে যেতে গিয়ে অচৈতন্য হয়ে পড়েন তিনি। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।মৃতের স্ত্রী ইলা সামন্ত কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, "অসুস্থ মানুষকে কেউ এভাবে হাঁটিয়ে নিয়ে যেতে বলে? একটা স্ট্রেচার পর্যন্ত দেয়নি কেউ!" একই সুর শোনা গেল ছেলে বিশালের গলাতেও। তাঁর আক্ষেপ, "মানুষ আশা নিয়ে আরজি করে আসে, কিন্তু এখানে সুস্থ মানুষও অব্যবস্থায় মারা যাচ্ছে।" যদিও হাসপাতাল সূত্রের দাবি, ট্রমা কেয়ারেই শৌচালয় আছে, তবুও কেন তাঁকে বাইরে যেতে বলা হলো তা নিয়ে রহস্য দানা বাঁধছে।গত শুক্রবারই এই ট্রমা কেয়ারের লিফ্‌টে আটকে মৃত্যু হয়েছিল দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেখানেও মূল সমস্যা ছিল হাতের কাছে শৌচালয় না থাকা। তিন বছরের ছেলের শৌচালয়ের প্রয়োজনে লিফ্‌ট ব্যবহার করতে গিয়ে যান্ত্রিক ত্রুটির বলি হন তিনি। দুই দিনের ব্যবধানে একই পরিকাঠামোগত ত্রুটির কারণে দুটি প্রাণ চলে যাওয়া প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।২০২৪-এর অগস্টে আরজি করের নির্যাতিতা চিকিৎসকের ঘটনার পর হাসপাতালের নিরাপত্তা ও পরিষেবা নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল গোটা দেশ। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ক্ষত আবার দগদগে হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যখন নির্যাতিতার মা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে লড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, তখন হাসপাতালের এই বারবার ঘটে চলা দুর্ঘটনা বিষয়টিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।ঘটনায় টালা থানা অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। প্রশ্ন একটাই— আর কত প্রাণ গেলে হুঁশ ফিরবে কর্তৃপক্ষের?হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার