তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির ফায়দা তুলতে এবার বড় চাল চালল ইরান। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর বিপুল পরিমাণ ‘ট্রানজিট ফি’ চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। এখন থেকে এই প্রণালী পার হতে প্রতিটি ভেসেল বা জাহাজ পিছু দিতে হবে ২ মিলিয়ন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৮.৮ কোটি টাকা।
ইরানের সংসদের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিটির সদস্য আলয়েদ্দিন বোরোউজার্দি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী এখন এক নতুন সার্বভৌম জমানায় প্রবেশ করেছে। তাঁর মতে, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার কারণে ইরানের সামরিক খাতে কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। এই বিপুল ব্যয় সামাল দিতেই ট্রানজিট ফি আদায়ের পথ বেছে নিয়েছে তারা। বোরোউজার্দির কথায়, এই কর নেওয়া ইরানের ক্রমবর্ধমান শক্তিরই প্রতিফলন। কয়েক দশক পর ইরান এই জলপথের ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ জাহির করছে।
বিশ্বের মোট তেল ও জ্বালানি সরবরাহের একটি বিশাল অংশ এই হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। ইরানের এই কড়াকড়ির ফলে জলপথে জাহাজের জ্যাম তৈরি হয়েছে। বেছে বেছে কিছু জাহাজকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও, তার বিনিময়ে এই বিপুল অর্থ দাবি করায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
ইরানের এই পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিক না করা হলে ইরানের পাওয়ার প্ল্যান্ট বা বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাবে আমেরিকা।
অন্যদিকে ইরানও পাল্টা হুমকি দিয়ে রেখেছে। তাদের দাবি, ইজরায়েলের শক্তি ভাণ্ডার এবং আমেরিকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো এখন ইরানি মিসাইলের নাগালে। মুহূর্তের মধ্যে সেগুলো ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে তেহরান।
কূটনীতিকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে এই অচলাবস্থা বজায় থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে উঠতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দেবে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন