কলকাতা: রাজনীতির ময়দানে চিরশত্রু বলে কিছু হয় না— এই প্রবাদকে আরও একবার সত্যি প্রমাণ করল ঘাসফুল শিবির। মাস দেড়েক আগেও যে নেতা বাম ঝান্ডা হাতে তৃণমূল সরকারকে ‘উৎখাত’ করার ডাক দিতেন, আজ তিনিই পেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সাফল্যের খতিয়ান আমজনতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার গুরুভার। রাজ্য রাজনীতির এক সময়ের পরিচিত তরুণ তুর্কি প্রতীক উর রহমানকে (Pratik Ur Rahaman) রাজ্য মুখপাত্র হিসেবে নিয়োগ করল তৃণমূল কংগ্রেস।
২০০৮ সাল থেকে বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত প্রতীক উর ছিলেন সিপিএমের এক উজ্জ্বল মুখ। দলের দুঃসময়েও তিনি সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে লড়াই করেছেন। জেলা থেকে রাজ্য কমিটির সদস্য হওয়া বা একাধিকবার ভোটে প্রার্থী হওয়া— আলিমুদ্দিন স্ট্রিট তাঁকে বরাবরই গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারিতে সিপিএমের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে দলত্যাগ করেন তিনি। এরপরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে নাম লেখান তৃণমূলে।
তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে সরকারি জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের গুণগান গাইতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। জল্পনা ছিল, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হতে পারেন। তবে প্রার্থী না করলেও, দলের হয়ে সওয়াল করার বড় দায়িত্ব তাঁর কাঁধেই সঁপল তৃণমূল নেতৃত্ব। এখন থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে এবং সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় তৃণমূলের ‘ডিফেন্ডার’ হিসেবে লড়বেন এই প্রাক্তন বামনেতা।
গতকাল পর্যন্ত যাঁর বক্তব্যে তৃণমূল সরকারের ভুলত্রুটি আর দুর্নীতির কথা শোনা যেত, এখন থেকে তাঁর মুখেই শোনা যাবে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বা ‘কন্যাশ্রী’র মতো প্রকল্পের উন্নয়নের পাঁচালি। রাজনৈতিক মহলের মতে, বাগ্মী হিসেবে প্রতীকের সুখ্যাতি রয়েছে, আর সেই ধারালো যুক্তিকেই এবার বিরোধী দমনে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন