কলকাতা: ছ’বছরের পুরনো একটি সরকারি নথি কেন্দ্র করে হুলুস্থূল পড়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতিতে। নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে কেন বিজেপির সিল? সোমবার রাতে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের আনা এই অভিযোগকে অস্ত্র করেই মঙ্গলবার সরাসরি কমিশন ও বিজেপির মধ্য়ে আঁতাতের অভিযোগে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গ সফরের আগে বিমানবন্দর থেকে তাঁর সাফ প্রশ্ন, “পিছন থেকে খেলছেন কেন? সামনে এসে খেলুন।”
সোমবার মহুয়া মৈত্র কমিশনের একটি পুরনো নথি প্রকাশ্যে আনেন। যেখানে দেখা যাচ্ছে, নির্বাচন কমিশনের দফতরের কাগজে পদ্মফুল চিহ্ন-সহ বিজেপির নাম লেখা সিল ব্যবহার করা হয়েছে! এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে যায়।
যদিও কমিশনের তরফে বিষয়টিকে ‘ক্লারিক্যাল মিস্টেক’ বা করণিক ভুল বলে দায় ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে, এই যুক্তি মানতে নারাজ মমতা। তিনি মঙ্গলবার পাল্ট প্রশ্ন তোলেন, “এটা ক্লারিক্যাল মিস্টেক, না রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত?” তাঁর দাবি, এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হচ্ছে যে - কমিশন ও বিজেপি আসলে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ!
শুধু এই স্ট্যাম্প বিতর্ক নয়, এসআইআর তালিকাপ্রকাশের সময় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার মধ্যরাতের ঠিক আগে কেন এই তালিকা প্রকাশ করা হল, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “তালিকা বের করতে এত ভয় কেন? তাহলে কি তালিকায় স্বচ্ছতা নেই? বিচারকরা তো ছ’দিন আগেই কাজ শেষ করেছিলেন, তবে কেন এই বিলম্ব? একতরফা কোনও পার্টির নাম ঢোকানোর জন্যই কি এই কৌশল?” মঙ্গলবার দুপুর গড়িয়ে গেলেও কেন সব বুথে তালিকা টাঙানো হয়নি, তা নিয়েও সরব হন তিনি।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক আধিকারিকদের গণ-বদলি নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, অনৈতিকভাবে ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে বদলি করা হয়েছে। এমনকী, নন্দীগ্রামের বিডিও-কে ভবানীপুরে সরিয়ে আনার ঘটনাকেও তিনি রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, “বিজেপিকে সুবিধা করে দিতেই এই ধরনের বদলি করা হচ্ছে।”
কমিশনকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করার অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমস্ত বিজেপিবিরোধী দলকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “বাম-ডান ভুলে যান। এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে সবাই একজোট হোন। মানুষের পাশে দাঁড়ান।” যদিও সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী এই আহ্বানে আমল দিতে নারাজ। তিনি পাল্ট কটাক্ষ করে বলেন, বিজেপিকে বাংলায় জায়গা করে দিয়েছেন মমতাই। তাই, তাঁদের (সিপিএম তথা বামেদের) লড়াই বিজেপি ও তৃণমূল - উভয়ের বিরুদ্ধেই চলবে।
সব মিলিয়ে, বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং ভোটারতালিকায় স্বচ্ছতা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণ বঙ্গ রাজনীতির উত্তাপে নতুন মাত্রা যোগ করল।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন