কলকাতা: বাংলার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের পারদ চড়ছে চড়-চড় করে। আর, সেই উত্তাপের কেন্দ্রে এবার দুই বিতর্কিত নাম — আসাদউদ্দিন ওয়েইসি এবং হুমায়ুন কবীর। মঙ্গলবার রাতে দমদম বিমানবন্দরে ওয়েইসিকে ‘বড় ভাই’ বলে জড়িয়ে ধরে হুমায়ুন কবীর যে রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিলেন, তাতে নবান্নের অন্দরে চিন্তার ভাঁজ পড়া অস্বাভাবিক নয়। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে মিম-এর এই জোট কি কেবলই আসন সমঝোতা, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসানোর গভীর ব্লু-প্রিন্ট?
বুধবার সকালে নিউটাউনের পাঁচতারা হোটেলে ওয়েইসিকে পাশে বসিয়েই তৃণমূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিলেন ভরতপুরের দাপুটে নেতা হুমায়ুন কবীর। ঘোষণা করলেন, মিম-এর সঙ্গে জোট বেঁধে আগামী ১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে নির্বাচনী জনসভা।
যার মূল লক্ষ্য, সংখ্যালঘু প্রধান এলাকাগুলিতে শক্তিপ্রদর্শন। ইতিমধ্যেই ১৮২টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে হুমায়ুনের দল। নজরকাড়া বিষয় হল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুর এবং হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রামেও প্রার্থী দিচ্ছে এই জোট। হুমায়ুন নিজে লড়ছেন জোড়া আসন - রেজিনগর ও নওদা থেকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওয়েইসির মিম (AIMIM) ভারতের যে প্রান্তেই পা রেখেছে, সেখানেই বিজেপিবিরোধী শিবিরের - বিশেষ করে ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির কপালে দুশ্চিন্তা বেড়েছে। বিহার থেকে উত্তরপ্রদেশ, সর্বত্রই বিগত নির্বাচনগুলিতে দেখা গিয়েছে, মিম-এর উপস্থিতিতে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হয়ে সরাসরি লাভবান হয়েছে বিজেপি।
তথ্যাভিজ্ঞ মহল মনে করছে, বাংলায় মুসলিম ভোট ব্যাঙ্ক তৃণমূলের সবথেকে বড় শক্তি। এই ভোটে সামান্য ফাটল ধরাতে পারলেও অনেক আসনেই শাসকদলকে পর্যুদস্ত করা সম্ভব। অতীতে বিহার বিধানসভা নির্বাচনে মিম পাঁচটি আসন জিতলেও অন্তত ২০টি আসনে আরজেডি-কংগ্রেস মহাজোটের হার নিশ্চিত করেছিল ভোট কাটাকাটির মাধ্যমে। বিরোধীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, মিম আসলে বিজেপির ‘বি-টিম’! যাদের কাজই হল, বিরোধী ভোট ভাগ করে গেরুয়া শিবিরকে সুবিধা করে দেওয়া।
হুমায়ুন কবীর ইদানীংকালে বারবার ধর্মীয় আবেগ উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বাবরি মসজিদ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি থেকে শুরু করে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি - সবটাই যেন এক সুতোয় গাঁথা। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার পর থেকেই হুমায়ুন নিজের আলাদা অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে মরিয়া। আর, সেই লড়াইয়ে তিনি পাশে পেলেন আসাদউদ্দিন ওয়েইসিকে।
তৃণমূল কংগ্রেস এই জোটকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে? দলের অন্দরের খবর, সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া না দিলেও মিম-হুমায়ুন জুটিকে নিয়ে সতর্ক দলীয় নেতৃত্ব। কারণ, মুর্শিদাবাদ, মালদহ বা উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলিতে যদি মুসলিম ভোট সামান্য শতাংশও সরে যায়, তবে আসন সংখ্যার অঙ্কে বড়সড় বদল আসতে পারে!
শেষ পর্যন্ত মিম এবং হুমায়ুনের এই ‘ভাই-ভাই’ সম্পর্ক বাংলার মাটিতে পদ্ম ফোটানোর পথ প্রশস্ত করে কিনা, সেটাই এখন দেখার।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন