Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

১৯ মাসের অন্ধকার কাটছে আর জি করে! শুরু হল 'সেই' জরুরি বিভাগের মেরামতি, খুলবে কবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬
১৯ মাসের অন্ধকার কাটছে আর জি করে! শুরু হল 'সেই' জরুরি বিভাগের মেরামতি, খুলবে কবে?

কলকাতা: ২০২৪ সালের ১৪-১৫ অগস্টের রাত। তিলোত্তমার বিচারের দাবিতে যখন গোটা রাজ্য ‘রাতদখল’-এর ডাক দিয়েছিল, সেই রাতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ। একদল বহিরাগতের তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গিয়েছিল হাসপাতালের জরুরি বিভাগ (Emergency Department)। সেই ঘটনার পর দীর্ঘ ১৯ মাস অতিক্রান্ত। অবশেষে বুধবার থেকে সেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মেরামতির কাজ শুরু করল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।


দীর্ঘ দেড় বছর এমার্জেন্সি বন্ধ থাকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছিল। বুধবার মেরামতির কাজ খতিয়ে দেখতে গিয়ে হাসপাতালের সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় জানান, “এমার্জেন্সি বিল্ডিং নিয়ে কিছু আইনি জটিলতা ছিল। আমি স্পষ্ট জানিয়েছিলাম, সমস্ত এজেন্সির থেকে ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত কাজ শুরু করা যাবে না। অবশেষে সেই জট কেটেছে।” উল্লেখ্য, অতীতে হাসপাতালের একটি অংশ ভাঙা নিয়েও তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তাই, এবার অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পা বাড়াচ্ছে কর্তৃপক্ষ।


হাসপাতাল সূত্রে খবর, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু হয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যেই জরুরি বিভাগ ফের চালু করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ১০টি জরুরি শয্যা এবং বেশ কিছু অবজারভেশন বেড চালু করার কথা ভাবা হচ্ছে। ভাঙচুরে নষ্ট হওয়া মেশিনপত্র সচল করতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে। সব মিলিয়ে সংস্কারের খরচ ১ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আপাতত পূর্ত দফতরের কর্মীদের সহায়তায় জরুরি বিভাগের ভিতর জমে থাকা জঞ্জাল ও ভাঙা সরঞ্জাম সরানোর কাজ চলছে।


এত দিন আর জি করের জরুরি পরিষেবা চালানো হচ্ছিল ট্রমা কেয়ার সেন্টারে। কিন্তু, গত শুক্রবার এবং সোমবার সেখানে পর পর দুই রোগীর মৃত্যু কেন্দ্র করে হাসপাতালের পরিকাঠামো নিয়ে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, ট্রমা কেয়ারে পর্যাপ্ত জায়গা ও সরঞ্জামের অভাবে পরিষেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই ‘বিপর্যয়’ এবং গণরোষের মুখে পড়েই তড়িঘড়ি মূল এমার্জেন্সি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।


বুধবারই হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে, সুপার সমস্ত বিভাগীয় প্রধান ও পড়ুয়াদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। সেখানে হাসপাতালের সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নের রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে যদি জরুরি বিভাগ আংশিকও চালু করা যায়, তাহলে উত্তর কলকাতার এই বড় হাসপাতালের উপর চাপ অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


১৯ মাসের অন্ধকার কাটছে আর জি করে! শুরু হল 'সেই' জরুরি বিভাগের মেরামতি, খুলবে কবে?

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মার্চ ২০২৬

featured Image
কলকাতা: ২০২৪ সালের ১৪-১৫ অগস্টের রাত। তিলোত্তমার বিচারের দাবিতে যখন গোটা রাজ্য ‘রাতদখল’-এর ডাক দিয়েছিল, সেই রাতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ। একদল বহিরাগতের তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গিয়েছিল হাসপাতালের জরুরি বিভাগ (Emergency Department)। সেই ঘটনার পর দীর্ঘ ১৯ মাস অতিক্রান্ত। অবশেষে বুধবার থেকে সেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মেরামতির কাজ শুরু করল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।দীর্ঘ দেড় বছর এমার্জেন্সি বন্ধ থাকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছিল। বুধবার মেরামতির কাজ খতিয়ে দেখতে গিয়ে হাসপাতালের সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় জানান, “এমার্জেন্সি বিল্ডিং নিয়ে কিছু আইনি জটিলতা ছিল। আমি স্পষ্ট জানিয়েছিলাম, সমস্ত এজেন্সির থেকে ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত কাজ শুরু করা যাবে না। অবশেষে সেই জট কেটেছে।” উল্লেখ্য, অতীতে হাসপাতালের একটি অংশ ভাঙা নিয়েও তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তাই, এবার অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পা বাড়াচ্ছে কর্তৃপক্ষ।হাসপাতাল সূত্রে খবর, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু হয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যেই জরুরি বিভাগ ফের চালু করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ১০টি জরুরি শয্যা এবং বেশ কিছু অবজারভেশন বেড চালু করার কথা ভাবা হচ্ছে। ভাঙচুরে নষ্ট হওয়া মেশিনপত্র সচল করতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে। সব মিলিয়ে সংস্কারের খরচ ১ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আপাতত পূর্ত দফতরের কর্মীদের সহায়তায় জরুরি বিভাগের ভিতর জমে থাকা জঞ্জাল ও ভাঙা সরঞ্জাম সরানোর কাজ চলছে।এত দিন আর জি করের জরুরি পরিষেবা চালানো হচ্ছিল ট্রমা কেয়ার সেন্টারে। কিন্তু, গত শুক্রবার এবং সোমবার সেখানে পর পর দুই রোগীর মৃত্যু কেন্দ্র করে হাসপাতালের পরিকাঠামো নিয়ে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, ট্রমা কেয়ারে পর্যাপ্ত জায়গা ও সরঞ্জামের অভাবে পরিষেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই ‘বিপর্যয়’ এবং গণরোষের মুখে পড়েই তড়িঘড়ি মূল এমার্জেন্সি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।বুধবারই হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে, সুপার সমস্ত বিভাগীয় প্রধান ও পড়ুয়াদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। সেখানে হাসপাতালের সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নের রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে যদি জরুরি বিভাগ আংশিকও চালু করা যায়, তাহলে উত্তর কলকাতার এই বড় হাসপাতালের উপর চাপ অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার