পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির আঁচ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল ভারতের আকাশপথে। ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে বড়সড় কাটছাঁট করা হচ্ছে ভারতীয় বিমানসংস্থাগুলির গ্রীষ্মকালীন সূচিতে। চলতি বছরের 'সামার শিডিউল'-এ গত বছরের তুলনায় সাপ্তাহিক প্রায় ৩,০০০টি ফ্লাইট কম চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমানসংস্থাগুলি। শতাংশের হিসেবে যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ কম। ২৯ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই নতুন সূচি আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে জানা গেছে।
এই ব্যাপক বিমান হ্রাসের নেপথ্যে কাজ করছে একধিক জটিল কারণ। প্রথমত, যুদ্ধের আবহে বিশ্ববাজারে বিমান জ্বালানি বা এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)-এর দাম আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ওপর বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামায় পরিচালন খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে সংস্থাগুলির পক্ষে। দেশের বৃহত্তম বিমানসংস্থা ইন্ডিগো ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে, জ্বালানি ও ডলারের চড়া দাম পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। পরিস্থিতি এতটাই পরিবর্তনশীল যে, যাত্রী চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক আন্তর্জাতিক উড়ান পুনর্বিন্যাস করার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো বিমানভাড়া বৃদ্ধি। বাড়তি খরচ সামাল দিতে ইতিমধ্যেই অনেক সংস্থা 'ফুয়েল সারচার্জ' বসানোর পথে হাঁটছে। এর ফলে এপ্রিল মাস থেকে বিমানভাড়া এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। যদি যাত্রী সংখ্যা আশানুরূপ না হয়, তবে খরচ বাঁচাতে অনেক ক্ষেত্রে ফ্লাইট বাতিল বা একাধিক উড়ানকে একত্র করে দেওয়ার কৌশল নিতে পারে সংস্থাগুলি।
যদিও বিমান মন্ত্রক অভ্যন্তরীণ ভাড়ার ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ তুলে নিয়েছে, তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠলে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছে তারা। সব মিলিয়ে, যুদ্ধের কোপে পড়ে এক অনিশ্চিত উড়ানের মুখে দাঁড়িয়ে ভারতীয় বিমান চলাচল ক্ষেত্র।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন