নিজস্ব প্রতিনিধি: উত্তরপ্রদেশের বারাবাঙ্কিতে ঘটে গেল এক হাড়হিম করা নৃশংস হত্যাকাণ্ড। সামান্য বচসার জেরে এক আইসক্রিম বিক্রেতার মাথা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠল এক স্থানীয় যুবকের বিরুদ্ধে। তবে এখানেই শেষ নয়, খুনের পর নিহতের কাটা মাথা নিয়ে বাড়ি ফিরে শান্তিতে রান্না করতে বসেছিলেন অভিযুক্ত। পুলিশের চোখে পড়া সেই ভয়াবহ দৃশ্য এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
ঘটনাটি ঘটেছে বারাবাঙ্কির পারসওয়াল (Parsawal) গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত যুবকের নাম বাবলু। তিনি পেশায় দিনমজুর হলেও অভাবের সংসারে বাড়তি উপার্জনের জন্য গ্রামে গ্রামে আইসক্রিম বিক্রি করতেন। প্রতিদিনের মতো এদিনও তিনি আইসক্রিম নিয়ে বের হয়েছিলেন। সেই সময় স্থানীয় বাসিন্দা শঙ্কর যাদবের সঙ্গে তাঁর কোনো বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঝগড়া চলাকালীন আচমকাই মেজাজ হারিয়ে শঙ্কর একটি কাস্তে দিয়ে বাবলুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে বাবলুর ধড় থেকে মুণ্ডু আলাদা করে দেয় সে।
খুন করার পর পালানোর কোনো চেষ্টাই করেনি শঙ্কর। বরং বাবলুর কাটা মাথাটি হাতে ঝুলিয়ে বীরদর্পে নিজের বাড়ির দিকে হেঁটে যায় সে। প্রত্যক্ষদর্শীরা আতঙ্কে সিঁটিয়ে গেলেও শঙ্কর ছিল নির্বিকার। বাড়িতে ঢুকে রান্নাঘরে কাটা মাথাটি পাশে নামিয়ে রেখে সে উনুন ধরিয়ে রান্না শুরু করে দেয়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশবাহিনী। এসপি অর্পিত বিজয়বর্গীয়র নির্দেশে অভিযুক্তের বাড়ি ঘিরে ফেলা হয়। পুলিশ যখন ঘরে ঢোকে, তখন তারা দেখে শঙ্কর একমনে রান্না করছে আর পাশেই পড়ে রয়েছে বাবলুর রক্তাক্ত কাটা মাথা। পুলিশ তৎক্ষণাৎ শঙ্করকে গ্রেফতার করে এবং খুনের অস্ত্রটি বাজেয়াপ্ত করে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
মৃত বাবলু ছিলেন পরিবারের বড় ছেলে। তাঁর ওপর নির্ভর করেই চলত স্ত্রী ও দুই ছোট সন্তানের সংসার। বাবার এই আকস্মিক ও নৃশংস মৃত্যুতে দিশেহারা পরিবারটি। এই খুনের নেপথ্যে পুরনো কোনো শত্রুতা ছিল কি না, নাকি অভিযুক্তের কোনো মানসিক সমস্যা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন