কলকাতা: ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হচ্ছে দক্ষিণ কলকাতার হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুর। এবার লড়াইয়ের কেন্দ্রে সোজাসুজি প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়। ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে আলিপুর ব্রিজের কাছে শুভেন্দু অধিকারীর জন্য তৈরি হওয়া নতুন পার্টি অফিসটি ‘বেআইনি’ বলে দাবি করে সরাসরি থানায় এফআইআর (FIR) করার কথা জানালেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
আলিপুর ব্রিজের পাশে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দুটি বড় হল এবং একটি ঘর নিয়ে তৈরি হয়েছে বিজেপির এই নতুন নির্বাচনী কার্যালয়। তৃণমূলের অভিযোগ, যে জমিতে এই অফিস তৈরি হয়েছে, সেটি অত্যন্ত বিতর্কিত এবং সেখানে নির্মাণকাজে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, পুরসভা এবং পুলিশের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই রাতারাতি এই কার্যালয় গড়ে তুলেছে বিজেপি।
এই প্রসঙ্গে মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন:
"আমরা ইতিমধ্যেই নোটিস পাঠিয়েছি এবং থানায় এফআইআর করে দিয়েছি। জায়গাটা সরকারি, যা আগে এক গুন্ডা দখল করেছিল, এখন বিজেপি তা কবজা করার চেষ্টা করছে। কোনোভাবেই বেআইনি নির্মাণ বরদাস্ত করা হবে না।"
অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ আরও এক ধাপ এগিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, "উনি তো নন্দীগ্রামের বেআইনি বিধায়ক। কারচুপি করে জিতেছিলেন বলেই মামলা এখনও চলছে। এবার নন্দীগ্রামেও হারবেন, ভবানীপুরেও হারবেন। প্রচারের শুরুতেই বেআইনি কাজ দিয়ে হাতেখড়ি করলেন শুভেন্দু।"
তৃণমূলের এই সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে পালটা রক্ষণাত্মক মেজাজে বিজেপি। দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার জানান, "আশা করি সমস্ত নিয়ম মেনেই অফিসটি তৈরি হয়েছে। শুভেন্দুদা নিজে হাতে তো আর ঘর গাঁথেননি, দলের কর্মীরাই তা করেছেন।" যদিও আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই নির্মাণ হলো, তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেনি গেরুয়া শিবির।
ভোটের লড়াই ময়দানে নামার আগেই কার্যালয় নিয়ে এই আইনি ও রাজনৈতিক টানাপড়েন ভবানীপুরের উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।
বিষয় : suvendu adhikari Firhad Hakim

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন