নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোট-অশান্তি রুখতে এবার কোমর বেঁধে নামছে নির্বাচন কমিশন। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বুথের অন্দরে কারচুপি রুখতে কমিশনের ব্রহ্মাস্ত্র হলো 'AI চালিত ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা'। প্রতিটি বুথে বসানো হচ্ছে ২ থেকে ৩টি করে ক্যামেরা, যা সরাসরি দিল্লির নির্বাচন সদন থেকে নিয়ন্ত্রিত হবে। কিন্তু প্রযুক্তির এই অতি-সক্রিয়তা নিয়েই এখন দানা বাঁধছে নতুন বিতর্ক। সম্প্রতি ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ (Logical Discrepancy) নিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের হেনস্থার স্মৃতি উসকে দিয়ে প্রশ্ন উঠছে—ভোটের ময়দানেও কি ‘বিভ্রান্ত’ হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা?
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়ালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার চার স্তরে চলবে নজরদারি। বুথের ভেতরে ৪ জনের বেশি ভোটার একসঙ্গে ঢুকলেই AI ক্যামেরা কন্ট্রোল রুমে সতর্কবার্তা পাঠাবে। শুধু তাই নয়, বুথের দরজায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের উপস্থিতিও এই ক্যামেরার নজরদারিতে থাকবে। ফ্লাইং স্কোয়াডের গাড়িতেও থাকবে এই বিশেষ ক্যামেরা।
কমিশন যখন প্রযুক্তির জয়গান গাইছে, তখন রাজনৈতিক দলগুলির কপালে চিন্তার ভাঁজ। সম্প্রতি এসআইআর (SIR) পর্বে কোটির উপরে মানুষের কাছে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র নোটিস গিয়েছে। অভিযোগ, AI-এর যান্ত্রিক ভুলের কারণে ‘চ্যাটার্জি’ আর ‘চট্টোপাধ্যায়’-এর তফাত বুঝতে পারেনি সিস্টেম। কারও নামের বানান ভুল, তো কারও পদবি নিয়ে বিভ্রান্তি—যার জেরে সাধারণ মানুষের কালঘাম ছুটেছে। তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই এই প্রযুক্তিগত ত্রুটি নিয়ে সরব হয়েছে। বিরোধীদের প্রশ্ন, ভোটার তালিকায় যাঁর ভুল হলো, ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি কি AI-এর ভুল বার্তার শিকার হবেন?
রাজ্য জুড়ে ৬৬০টি টিভিতে প্রতি মুহূর্তের লাইভ ওয়েব কাস্টিং চলবে। কিন্তু প্রযুক্তির ওপর এই অতি-নির্ভরতা কি শেষমেশ বুথের ভিড় সামলাতে গিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে? না কি ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র শিক্ষা নিয়ে এবার ত্রুটিমুক্ত হবে কমিশনের AI? উত্তর মিলবে ভোটের দিনেই। তবে আপাতত প্রযুক্তির এই নতুন ‘নজরদারি’ নিয়ে বাংলার রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন