কলকাতা: জীবন কখনও কখনও সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়েও বেশি নাটকীয় এবং করুণ। ২০০৮ সালে রাজ চক্রবর্তীর ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবিতে জুবিন গর্গের কণ্ঠে ‘পিয়া রে পিয়া রে’ গানটি বাঙালির বিরহী হৃদয়ের অ্যান্থেম হয়ে উঠেছিল। সেই গানের পর্দার নায়ক রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নেপথ্যের কণ্ঠ জুবিন গর্গ— দুজনেই আজ অমৃতলোকে। গত বছর সিঙ্গাপুরে সমুদ্রের জলেই মৃত্যু হয়েছিল ৫২ বছর বয়সী জুবিনের, আর রবিবার দিঘার তালসারিতে সেই সমুদ্রেরই নোনা জল কেড়ে নিল ৪৩ বছরের রাহুলের প্রাণ। মৃত্যুও যেন এক অদ্ভুত সুতোয় গেঁথে দিল দুই প্রিয় বন্ধুকে।
রাহুল আর ‘পিয়া রে’ গানটি ছিল একে অপরের পরিপূরক। রাহুল নিজেই এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, কোনো রেস্তোরাঁ বা অনুষ্ঠানে গেলে আজও তাঁর জন্য এই গানটি বাজানো হয়। গায়ক না হওয়া সত্ত্বেও দর্শকদের অনুরোধে বহুবার মঞ্চে তাঁকে এই গানটি গাইতে হয়েছে। গত বছর যখন জুবিনের মৃত্যুর খবর আসে, তখন শো করতে যাওয়ার আগে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন রাহুল। প্রিয় বন্ধু ও সহকর্মীকে হারিয়ে একটি সংবাদপত্রে-এ লিখেছিলেন, “এক জন বন্ধুকে হারালাম। ও চিরসখা ছিল আমার।” আজ রাহুলও নেই, নেই জুবিনও— পড়ে রইল শুধু তাঁদের সেই কালজয়ী সৃষ্টি।
মজার বিষয় হলো, ‘পিয়া রে’ গানের শুটিংয়ের সময় রাহুল জানতেনই না এই দৃশ্যগুলোতে কী গান ব্যবহার করা হবে। বাসে করে পালিয়ে যাওয়া কিংবা হাইওয়েতে কাটানো মুহূর্তগুলোতে পরে জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সুরে জুবিনের কণ্ঠ জুড়ে দিয়েছিলেন পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। সেই সুরই রাহুল-প্রিয়াঙ্কা জুটিকে পৌঁছে দিয়েছিল জনপ্রিয়তার শিখরে। জুবিনের প্রয়াণে রাহুল বলেছিলেন, অসমের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন ভূপেন হাজারিকার পর সবচেয়ে বড় আইকন। আজ রাহুলের অকাল প্রয়াণে বাংলার আকাশ-বাতাসও যেন একই হাহাকারে ভারী হয়ে উঠেছে।
জুবিন চলে গিয়েছেন যোজন দূরে সিঙ্গাপুরের সমুদ্রে, আর রাহুল হারালেন ঘরের কাছের তালসারিতে। দুই বন্ধুর এমন বিদায় যেন বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে সেই সুর— ‘পিয়া রে...’। কণ্ঠ আর কায়া আজ দুজনেই স্মৃতির ওপারে, কিন্তু তাঁদের সৃষ্টি বেঁচে থাকবে চিরকাল।
বিষয় : Kolkata Rahul Death Jubin

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন