দিঘা: জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক প্রয়াণের কারণ খুঁজতে এবার কোমর বেঁধে নামল পুলিশ। ঘটনার সময় ওড়িশার তালসারি বিচে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলছিল। সেই সময়কার বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজ এখন তদন্তকারীদের হাতে। আর সেই ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান বিশ্লেষণ করতেই উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
তদন্ত সূত্রে খবর, বিকেল ৫টা নাগাদ সমুদ্রের ধারে রাহুল ও নায়িকা শ্বেতার একটি নাচের দৃশ্যের শুটিং হচ্ছিল। গোড়ালি সমান জলে দাঁড়িয়ে সংলাপ বলার কথা থাকলেও, আচমকাই তাঁরা দুজনে গভীর জলের দিকে এগোতে শুরু করেন। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, এক সময় শ্বেতা ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সহ-অভিনেত্রীকে বাঁচাতে গিয়েই সাঁতার না জানা রাহুল জলের তোড়ে তলিয়ে যান। প্রায় দুই ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস তল্লাশির পর টেকনিশিয়ানরা তাঁকে উদ্ধার করেন।
ম্যানেজার এবং পরিচালকের বয়ানে কিছু অসঙ্গতিও নজর কাড়ছে। পরিচালক শুভাশিস মণ্ডলের দাবি, রাহুলকে বারবার বারণ করা সত্ত্বেও তিনি গভীর জলের দিকে এগোচ্ছিলেন। এমনকি পাড়ে তোলার সময়ও তাঁর জ্ঞান ছিল বলে দাবি করেছেন পরিচালক। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, প্রায় ৩০ জন ক্রু মেম্বার উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কেন কোনো লাইফ জ্যাকেট বা পেশাদার উদ্ধারকারী দল সেখানে ছিল না? অভিযোগ উঠেছে, এই শুটিংয়ের জন্য নাকি আগে থেকে কোনো প্রশাসনিক অনুমতিও নেওয়া হয়নি।
দিঘা থানায় ইতিমধ্যেই অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা রুজু হয়েছে, পাশাপাশি ওড়িশা পুলিশও পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করেছে। সোমবার তমলুক মেডিক্যাল কলেজে অভিনেতার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে। এদিকে প্রিয় বন্ধুকে শেষ দেখা দেখতে এবং দেহ কলকাতায় ফিরিয়ে আনতে ইতিমধ্যেই তমলুকের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন রাহুলের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই অকাল প্রয়াণকে টলিউড ও টেলিউডের জন্য এক ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ বলে বর্ণনা করেছেন। পর্দার 'কৃষ্ণ' চিরতরে বিদায় নিলেও, তাঁর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে এখন ভিডিও ফুটেজই পুলিশের প্রধান ভরসা।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন