বীরপাড়া: ভোটের মুখে ডুয়ার্সের তপ্ত রাজনীতিতে নতুন মোড়! মাদারিহাটে বিজেপির অন্দরে মাথাচারা দেওয়া প্রার্থী-অসন্তোষের কাঁটা উপড়ে ফেলতে এবার আসরে নামলেন বিমল গুরুং। পাহাড়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা রবিবার আলিপুরদুয়ারের বীরপাড়ায় বিজেপি নেতা রাহুল লোহারের বাড়িতে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন। যার লক্ষ্য ছিল একটাই - সমস্ত ক্ষোভ সরিয়ে রেখে পদ্মপ্রার্থী লক্ষ্মণ লিম্বুকে জেতাতে কোমর বেঁধে মাঠে নামা!
মাদারিহাটের প্রাক্তন বিধায়ক মনোজ টিগ্গা সাংসদ হওয়ার পর উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন চা-বলয়ের পরিচিত মুখ রাহুল লোহার। কিন্তু, সেই লড়াইয়ে তিনি হেরে যান। এরপর দলবদল করে তৃণমূলে গেলেও ফের বিজেপিতে ফেরেন তিনি। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে (২০২৬) রাহুল ফের টিকিট পাবেন বলে আশা করেছিলেন তাঁর অনুগামীরা। কিন্তু, দল ভরসা রেখেছে লক্ষ্মণ লিম্বুর উপর। গুঞ্জন ওঠে, বিমল গুরুংয়ের পছন্দেই লক্ষ্মণকে প্রার্থী করা হয়েছে। আর, তাতেই ‘নিষ্ক্রিয়’ হয়ে পড়েছিলেন রাহুল।
এই প্রেক্ষাপটে রবিবার মাদারিহাটের বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মণ লিম্বুকে সঙ্গে নিয়েই রাহুলের ড্রয়িং রুমে হাজির হন বিমল গুরুং। দীর্ঘক্ষণ রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর দুই তরফের মধ্য়ে বরফ গলেছে বলেই দাবি সূত্রের। বৈঠক শেষে বিমল গুরুং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, "এবার রাজ্যে বিজেপি সরকার আসবেই। গত উপনির্বাচনে কেন হার হয়েছিল, তা আমরা জানি। এবার আমাদের রণনীতি তৈরি।"
অন্যদিকে, মান ভাঙার পর রাহুল লোহারও সুর নরম করেছেন। তিনি বলেন, "লক্ষ্মণ লিম্বু প্রার্থী হওয়ার পরই আমি অভিনন্দন জানিয়েছিলাম। আজ গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বাড়িতে এসেছিলেন, অনেক কথা হল। আমরা সবাই মিলে লক্ষ্মণকে জেতানোর জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ব।"
রাজনৈতিক মহলের মতে, ডুয়ার্সের চা-বলয়ে গোর্খা ভোটব্যাঙ্ক বড় ফ্যাক্টর। সেখানে গুরুংয়ের ব্যক্তিগত ক্যারিশমা এবং বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি একজোট না হলে জয় কঠিন হতে পারত। রাহুল লোহারের মতো নেতাকে সক্রিয় করে গুরুং বুঝিয়ে দিলেন, ডুয়ার্স ও পাহাড়ের জোট রাজনীতিতে তিনি এখনও প্রাসঙ্গিক।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন