ইসলামাবাদ: চরম অর্থনৈতিক সঙ্কটের মাঝে এবার বড়সড় নাশকতার মুখে পাকিস্তান। দক্ষিণ পাকিস্তানে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়া হল প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান পাইপলাইন। অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের এই হামলায় মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে দেশের একাধিক জেলার গ্যাস সরবরাহ। পশ্চিম এশিয়ার সামরিক উত্তেজনার কারণে এমনিতেই ধুঁকছিল পাক জ্বালানি ক্ষেত্র। তার উপর এই হামলা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
সুই সাদার্ন গ্যাস সংস্থার মুখপাত্র জানিয়েছেন, কোয়েটা শহরের উপকণ্ঠে পাইপলাইনের একটি বড় অংশ ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শুধুমাত্র কোয়েটা নয়, বরং পাঞ্জগুর, সিবি, মাস্তুং, নোশকি এবং ডেরা বুগতির মতো জেলাগুলিতে হাহাকার পড়ে গিয়েছে। রান্নার গ্যাস থেকে শুরু করে শিল্পোৎপাদন - সবই এখন বিশ বাঁও জলে।
পাকিস্তানের দুর্ভাগ্য যেন পিছু ছাড়ছে না। একদিকে দেশের ভিতর নাশকতা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও বিপাকে ইসলামাবাদ। সূত্রের দাবি, সামরিক সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালীতে এখনও পাকিস্তানের তেল ও গ্যাসবাহী বহু জাহাজগ আটকে রয়েছে। বিদেশ থেকে জ্বালানি না পৌঁছনোয় দেশে এমনিতেই রেশনিং চলছিল, তার উপর এই পাইপলাইন বিস্ফোরণ কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিল!
শেষ পাওয়া খবর অনুসারে, কোনও গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে, পাকিস্তান প্রশাসনের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব! গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই আফগানিস্তান ও ইরানের সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানের দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে। আকাশসীমা লঙ্ঘন এবং সীমান্ত সংঘর্ষের আবহে এই গ্যাস পাইপলাইনে হামলাকে সরাসরি আফগানিস্তানের 'পরিকল্পিত চাল' হিসাবেই দেখছে ইসলামাবাদের একাংশ।
বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন মেরামতির কাজ শুরু হলেও, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরমে। এই ঘটনা পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও তলানিতে নিয়ে যাবে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন