কলকাতা: মালদহের কালিয়াচকে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখার ঘটনায় এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতের নজরে আসতেই রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের তীব্র ভর্ৎসনা করেন বিচারপতিরা। এই ঘটনায় মালদহের জেলাশাসক (DM) এবং পুলিশ সুপারকে (SP) শো-কজ করার পাশাপাশি কালিয়াচক কাণ্ডে CBI অথবা NIA তদন্তের জোরালো নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে বিষয়টি উত্থাপিত হলে আদালত স্পষ্ট জানায়, এই ঘটনায় প্রশাসনের আরও অনেক বেশি নজরদারির প্রয়োজন ছিল। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী অত্যন্ত বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন যে, প্রশাসনিক গাফিলতির কারণেই সাত জন বিচারককে এমন হেনস্থার মুখে পড়তে হয়েছে। আদালতের নির্দেশে ইতিমধ্যেই রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব এবং ডিজিপি-র কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।
এদিনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি জানান, হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে তিনি একটি চিঠি পেয়েছেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে তিন জন মহিলা বিচারক-সহ মোট সাত জনকে দুষ্কৃতীরা ঘেরাও করে রেখেছিল। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক ছিল যে, খোদ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিজে উদ্যোগী হয়ে রাজ্যের ডিজিপি এবং স্বরাষ্ট্র সচিবকে ফোন করতে হয়েছিল।
আদালতে পেশ করা চিঠিতে আরও জানানো হয়, ঘটনাস্থলে জেলাশাসক বা পুলিশ সুপারের দেখা মেলেনি। কেন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত। রাজ্যের পক্ষে বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল এবং কমিশনের পক্ষে ডিএস নাইডু সওয়াল করলেও, বিচারকদের নিরাপত্তায় এমন বড়সড় গলদ মেনে নিতে পারেনি আদালত।
কালিয়াচকের এই ঘটনা কেবল আইন-শৃঙ্খলার অবনতি নয়, বরং বিচারব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে সুপ্রিম কোর্ট। এখন কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে প্রশাসনের কোন কোন আধিকারিকের নাম উঠে আসে, সেটাই দেখার।
বিষয় : India Suprime Court

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন