বিশ্বজুড়ে চলা ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি দফতরে কাজের সময় পরিবর্তন এবং 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' (বাড়িতে বসে কাজ) চালুর বিষয়ে নীতিগত চিন্তাভাবনা শুরু করেছে সরকার। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই প্রস্তাব বর্তমানে বিবেচনাধীন থাকলেও এখনই তা কার্যকর হচ্ছে না।
সূত্রের খবর, সপ্তাহে পাঁচ দিনের পরিবর্তে তিন দিন অফিস খোলা রাখার একটি খসড়া তৈরি হয়েছে। বাকি দু’দিন কর্মচারীরা বাড়ি থেকে কাজ করবেন। অফিসের সময়ও এগিয়ে এনে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে, যাতে দিনের আলো থাকতেই কাজ শেষ করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা যায়। তবে হাসপাতাল বা ফায়ার সার্ভিসের মতো জরুরি পরিষেবা এই নিয়মের আওতার বাইরে থাকবে। এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ভার্চুয়াল ক্লাস শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নজির গড়তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজের দপ্তর থেকেই কাজ শুরু করেছেন। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অতিরিক্ত আলো জ্বালানো বন্ধের পাশাপাশি একাধিক এসি মেশিনও বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি। গত মঙ্গলবার আচমকা কয়েকটি দফতরে গিয়ে তিনি নিজেই জানলা খুলে দিয়ে দেখান যে, দিনের আলোতেও অনায়াসেই কাজ করা সম্ভব। বিদ্যুৎ খরচ কমাতে তিনি সরকারি কর্মচারীদেরও মিতব্যয়ী হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলি মূলত জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে, সার উৎপাদনকারী কারখানাগুলিতেও বিদ্যুতের বিপুল চাহিদা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় তেল আমদানিতে সমস্যা তৈরি হওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করা ছাড়া এই মুহূর্তে বিকল্প কোনও পথ নেই সরকারের কাছে।
আপাতত সপ্তাহে পাঁচ দিন অফিস করার পুরনো ব্যবস্থাই বহাল থাকছে। তবে পরিস্থিতি বুঝে খুব শীঘ্রই নতুন নির্দেশিকা জারি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন