২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট বাজতেই সবথেকে বড় ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড’ হয়ে উঠল ভবানীপুর। বৃহস্পতিবার দুপুরে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের দোরগোড়ায় মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়াল তৃণমূল ও বিজেপি। একদিকে হেভিওয়েট প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন পেশ, অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মেগা রোড-শো— সব মিলিয়ে এদিন ভবানীপুরে উত্তেজনার পারদ ছিল তুঙ্গে।
এদিন দুপুর নাগাদ অমিত শাহের নেতৃত্বে বিজেপির রোড-শো যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনের গলি দিয়ে যাচ্ছিল, তখনই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। আগে থেকেই সেখানে কালো পতাকা হাতে জমায়েত করেছিলেন তৃণমূল কর্মীরা। শাহের কনভয় দেখা মাত্রই শুরু হয় ‘জয় বাংলা’ এবং ‘চোর-চোর’ স্লোগান। পাল্টা ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি দিতে শুরু করেন বিজেপি সমর্থকরা। মুহূর্তের মধ্যে দুই পক্ষ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক ছিল যে, নিরাপত্তার খাতিরে অমিত শাহকে তাঁর ছাদখোলা গাড়ি ছেড়ে অন্য একটি বন্ধ গাড়িতে উঠে পড়তে হয়। বিশাল পুলিশ বাহিনী লাঠি উঁচিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তৃণমূলের এই প্রবল বিক্ষোভের মাঝেই সার্ভে বিল্ডিংয়ে গিয়ে নিজের মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর পাশে ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজেই। মনোনয়ন জমা দিয়ে বেরিয়ে হাজরা মোড় থেকে তৃণমূল সরকারকে উৎখাতের ডাক দেন শাহ। তিনি বলেন, “বাংলার মানুষ এবার তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরাবে। আমরা ক্ষমতায় এসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তুলব।” তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৬-এ বাংলার পরিবর্তন অনিবার্য।
ভবানীপুর এবার দুই মেগাস্টার প্রার্থীর লড়াইয়ের সাক্ষী। একদিকে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে তাঁরই প্রাক্তন সেনাপতি শুভেন্দু অধিকারী। আজকের এই ঘটনা বুঝিয়ে দিল, আগামী দিনে এই কেন্দ্রের লড়াই এক ইঞ্চিও জমি ছাড়বে না কোনও পক্ষই। একদিকে কালো পতাকা আর বিক্ষোভ, অন্যদিকে শাহের ‘সোনার বাংলা’র ডাক— সব মিলিয়ে ভোটের আগেই সরগরম তিলোত্তমা।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন