২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রটি এখন টলিউডের দুই চেনা মুখের লড়াইয়ে সরগরম। একদিকে বিজেপির ‘তুরূপের তাস’ তথা বর্ষীয়ান অভিনেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, অন্যদিকে বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূলের দক্ষ সংগঠক লাভলী মৈত্র। তবে ভোটের লড়াই শুরুর আগেই ‘ল্যাম্পপোস্ট’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই প্রার্থীর মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাক-তরজা।
এদিন প্রচারের ময়দান থেকে তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “তৃণমূলের একটাই পোস্ট, বাকি সব ল্যাম্পপোস্ট।” এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। সোনারপুর দক্ষিণের উন্নয়নের খতিয়ান টেনে তাঁর দাবি, এই এলাকায় উন্নয়নের কাজে চরম অবহেলা করা হয়েছে এবং বরাদ্দের টাকা সঠিক পথে খরচ হয়নি। এমনকি কালীঘাটে টাকা পৌঁছে দেওয়ার মতো বিস্ফোরক অভিযোগও তোলেন তিনি। দীর্ঘদিন রাজনীতির মূল স্রোত থেকে কিছুটা দূরে থাকার পর এবার এই কেন্দ্রেই কামব্যাক করতে মরিয়া বিজেপির এই ‘দ্রৌপদী’।
রূপার এই ব্যক্তিগত আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়ে পাল্টা সৌজন্য দেখিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী লাভলী মৈত্র। তিনি বলেন, “উনি যা বলছেন তা ওঁর এবং ওঁর দলের সংস্কৃতি। আমি ব্যক্তিগত আক্রমণে বিশ্বাসী নই।” রূপা গঙ্গোপাধ্যায়কে বড় হিসেবে শ্রদ্ধা ও প্রণাম জানিয়েও লাভলী মনে করিয়ে দেন যে, বিজেপি বরাবরই মহিলাদের অসম্মান করে। গত পাঁচ বছরে নিজের এলাকায় সংগঠনের কাজ দিয়ে মাটি কামড়ে পড়ে থাকা লাভলী এখন যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। বিরোধীদের তোলা সমস্ত প্রশ্নের জবাব তিনি ইভিএম-এই দেবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন।
সোনারপুর দক্ষিণে লড়াইটা এখন স্রেফ রাজনীতির নয়, বরং অভিজ্ঞ বনাম তারুণ্যের। একদিকে রূপার কামব্যাক করার লড়াই, অন্যদিকে লাভলীর দুর্গ রক্ষা করার চ্যালেঞ্জ। আগামী ৪ ঠা মে ভোটের ফলাফলই স্পষ্ট করে দেবে সোনারপুরের মানুষ কাকে বেছে নিলেন— রূপালি পর্দার চিরকালীন ‘দ্রৌপদী’কে নাকি ঘরের মেয়ে হয়ে ওঠা লাভলীকে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন