কলকাতা: মালদহের কালিয়াচকে নির্বাচনী আধিকারিক ও বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনায় অবশেষে পুলিশের জালে মূল অভিযুক্ত মোফাক্কেরুল ইসলাম। শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর থেকেই ফেরার ছিলেন এই আইনজীবী নেতা। শেষ পর্যন্ত ভিন রাজ্যে পালানোর আগেই তাঁকে ধরে ফেলে প্রশাসন।
ইটাহারের বাসিন্দা মোফাক্কেরুল পেশায় আইনজীবী। এক সময় রায়গঞ্জ ও কলকাতা হাইকোর্টে প্র্যাকটিস করতেন তিনি। ২০২১ সালে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল 'মিম' (MIM)-এ যোগ দিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছিলেন। কমিশনের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, বুধবার মালদহের মোথাবাড়ি ও সুজাপুর এলাকায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার ইস্যুকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষকে প্ররোচিত করেছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বেই উত্তেজিত জনতা ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে এবং সাতজন বিচারককে ব্লক অফিসের ভেতরে প্রায় ৮ ঘণ্টা আটকে রাখে।
বুধবারের সেই নজিরবিহীন ঘটনায় বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তার অভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত রাজ্য প্রশাসনকে তীব্র ভর্ৎসনা করে এনআইএ (NIA) বা সিবিআই তদন্তের ইঙ্গিত দেয়। এরপরই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জরুরি বৈঠক ডেকে মালদহ কাণ্ডের তদন্তভার এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পুলিশের শীর্ষ কর্তাদেরও চরম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার সারাদিন মোফাক্কেরুলের মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। তাঁর খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ। শুক্রবার সকালে গ্রেফতার হওয়ার ঠিক আগে সমাজমাধ্যমে একটি রহস্যময় পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘ভাল থাকুন আপনারা’। বর্তমানে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ঘটনার পেছনের বৃহত্তর ষড়যন্ত্র খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা।
বিষয় : West Bengal NIA

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন