কলকাতা: বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তা নিয়ে দানা বাঁধছে বিতর্ক। রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারকে পর পর দু’বার তলব করার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর নজরে রাজ্যের দুই বিদায়ী মন্ত্রী তথা হেভিওয়েট প্রার্থী সুজিত বসু এবং রথীন ঘোষ। পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নাম জড়িয়ে এবার তাঁদের সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইডির সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, আগামী সোমবার অর্থাৎ ৬ এপ্রিল বিধাননগরের তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসুকে তলব করা হয়েছে। অন্যদিকে, মধ্যমগ্রামের প্রার্থী রথীন ঘোষকে ডাকা হয়েছে বুধবার, ৮ এপ্রিল। বর্তমানে দু’জনেই নিজের নিজের কেন্দ্রে ভোটপ্রচারে ব্যস্ত। প্রচারের এই চূড়ান্ত সময়ে তাঁরা হাজিরা দেবেন নাকি সময়ের আবেদন জানাবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।
চলতি সপ্তাহেই জমি দুর্নীতি মামলায় দেবাশিস কুমারকে দু’বার তলব করেছিল ইডি। শুক্রবারও তিনি প্রচার ফেলে নথিপত্র নিয়ে হাজিরা দেন। এরপরই শুক্রবার বিকেলের দিকে পুরনিয়োগ মামলার ফাইল খুলে সুজিত বসু ও রথীন ঘোষকে তলব করার খবর সামনে আসে। সাম্প্রতিককালে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় এজেন্সি সক্রিয় হলেও, ভোটের মুখে বেছে বেছে শাসকদলের প্রার্থীদেরই কেন ডাকা হচ্ছে— এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে।
যদিও সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি, তবে তৃণমূল শিবিরের অন্দরে এই পদক্ষেপকে 'কেন্দ্রের প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি' হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিরোধীদের দাবি, তদন্ত নিজের গতিতে চলছে। তবে নির্বাচনের ভরা মৌসুমে এই জোড়া তলব যে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন