কোচবিহার: বিধানসভা ভোটের মুখে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়! আগামিকাল - অর্থাৎ - রবিবার কোচবিহারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাই-ভোল্টেজ জনসভা। আর, তার ঠিক আগেই রাজ্যসভার ‘বিদ্রোহী’ বিজেপি সাংসদ তথা গ্রেটার কোচবিহার নেতা অনন্ত মহারাজের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক সারলেন দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত এবং ভূপেন্দ্র যাদব। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি মোদীর সভার আগে মহারাজের মানভঞ্জনের পালা শুরু হল?
কোচবিহারের রাজনীতির সমীকরণ বেশ জটিল। একদিকে বিজেপি সাংসদ হয়েও বারবার সুর চড়িয়ে দলকে অস্বস্তিতে ফেলেছেন নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজ। কখনও রাজ্য সরকারের ‘বঙ্গবিভূষণ’ মঞ্চে তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি, আবার কখনও দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ। এর মধ্যেই বিজেপি নেতৃত্ব বংশীবদন বর্মনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোয় দূরত্ব আরও বেড়েছিল মহারাজের সাথে।
শুক্রবার রাতে দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর তাঁর বাড়িতে হাজির হওয়া সেই ‘বরফ গলার’ ইঙ্গিত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও বৈঠক শেষে কোনও পক্ষই সংবাদমাধ্যমে মুখ খোলেনি।
এই প্রেক্ষাপটে রবিবার অনন্ত মহারাজ মোদীর সভায় থাকবেন কিনা, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও আশাবাদী গেরুয়া শিবির। কোচবিহার জেলা বিজেপির সভাপতি অভিজিৎ বর্মন বলেন, “অনন্ত মহারাজ বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদ। প্রধানমন্ত্রীর সভায় তিনি উপস্থিত থাকবেন বলেই আমরা আশা করছি।”
উত্তরবঙ্গের রাজবংশী ভোটব্যাঙ্ক দখলের লড়াইয়ে অনন্ত মহারাজ একটি বড় ফ্যাক্টর। কিন্তু, সাম্প্রতিককালে তাঁর ‘বিদ্রোহী’ মনোভাব এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে সুসম্পর্ক বিজেপির কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, একদিকে বংশীবদন বর্মনকে হাতে রাখা এবং অন্যদিকে অনন্ত মহারাজের ক্ষোভ প্রশমন করা - এই দুই নৌকাতেই পা দিয়ে চলতে চাইছে নয়াদিল্লির বিজেপি নেতৃত্ব।
শেষ পর্যন্ত রবিবারের রাজকীয় মঞ্চে মোদীর পাশে অনন্ত মহারাজকে দেখা যাবে কিনা, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন