কলকাতা: বঙ্গ ভোটের মুখে নজিরবিহীন এক ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে তিলোত্তমা। স্বাধীনতার পর গত প্রায় সাড়ে সাত দশকে যা ঘটেনি, এবার সেটাই করে দেখাল নির্বাচন কমিশন। সরাসরি কলকাতা পুরনিগমের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিল তারা। এখন থেকে পুর কমিশনারের দফতর কাজ করবে উত্তর কলকাতার নির্বাচনী আধিকারিকের অফিস হিসাবে। কমিশনের এই ‘দখলদারি’র ফলে শহরের সাধারণ নাগরিক পরিষেবা কি পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যাবে? এটাই এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন।
কমিশনের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, কলকাতা পুরনিগমের কমিশনার আইএএস সুমিত গুপ্ত এখন থেকে উত্তর কলকাতার নির্বাচনী আধিকারিকের গুরুদায়িত্ব সামলাবেন। এর অর্থ হল, এখন থেকে পুরনিগমের অন্দরে যে কোনও প্রশাসনিক বৈঠক, সভা বা অধিবেশন ডাকতে গেলে কমিশনের আগাম অনুমতি বাধ্যতামূলক। এমনকী, পুরনিগমের নিত্যনৈমিত্তিক কাজের ফাইল নড়াচড়াতেও থাকবে কমিশনের কড়া নজরদারি।
শহরবাসীর মনে এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন, পরিষেবা মিলবে তো? রাস্তার জঞ্জাল পরিষ্কার করা, জমা জল সরানো কিংবা বিপজ্জনক গাছ কাটার মতো সাধারণ কাজের জন্যও কি এখন কমিশনের দোরগোড়ায় দৌড়তে হবে? যদিও পুর কমিশনারের তরফে আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে, ন্যূনতম পরিষেবা বজায় রাখা হবে! কিন্তু, প্রশাসনিক জটিলতায় কাজ থমকে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না ওয়াকিবহাল মহল।
কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে ‘অভাবনীয়’ এবং ‘জবরদখল’ বলে তোপ দেগেছে রাজ্যের শাসক শিবির। তাদের দাবি, ভোটের আগে আধিকারিক বদলি তো চলছিলই, কিন্তু গোটা একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানকে এভাবে নির্বাচনী অফিসে পরিণত করার মতো ঘটনা আগে কখনও দেখা যায়নি। বিরোধীদের অবশ্য দাবি, স্বচ্ছ ও অবাধ ভোট করাতেই এই কঠোর পদক্ষেপ।
কলকাতা পুরনিগমের ইতিহাসে এই প্রথমবার ক্ষমতার অলিন্দে যে বদল এল, তা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের লড়াইকে আরও কয়েক গুণ উত্তপ্ত করে তুলল।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন