কলকাতা: অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকালমৃত্যুতে শোকের কালো ছায়া টলিপাড়ায়। শনিবার বিকেলে টালিগঞ্জ টেকনিশিয়ান স্টুডিয়ো থেকে রাধা স্টুডিও পর্যন্ত একটি মৌন মিছিলে পা মেলালেন ইন্ডাস্ট্রির দিকপালরা। সৃজিত মুখোপাধ্যায়, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় থেকে শুরু করে জুন মালিয়া - প্রত্যেকের চোখেই জল, আর মুখে একটাই প্রশ্ন - ‘কেন এভাবে চলে যেতে হলো রাহুলকে?’
বিকেল চারটে নাগাদ টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োর সামনে একে-একে জড়ো হন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস, ইম্পা প্রেসিডেন্ট পিয়া সেনগুপ্ত এবং টলিপাড়ার একঝাঁক তারকা। মিছিল যত এগিয়েছে, সাধারণ মানুষের ভিড় তত বেড়েছে। কালো ব্যাজ পরে মিছিলে হাঁটতে-হাঁটতে কান্নায় ভেঙে পড়েন অভিনেত্রী মিশমি রায় বণিক। রাহুলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “স্বপ্নউড়ান ধারাবাহিকে কাজ করার সময় ও যেভাবে সবার খোঁজ রাখত, তা ভোলা সম্ভব নয়।”
এদিনের মিছিলে অভিনেতা-পরিচালকদের নিশানায় ছিল শুটিং সেটের নিরাপত্তাবিধি। বিধায়ক তথা অভিনেত্রী জুন মালিয়া বিস্ফোরক দাবি করে বলেন, “নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলে আমি অনেক প্রযোজনা সংস্থার কাছে অপ্রিয় হয়েছি। মুম্বইয়ে কিন্তু এভাবে কাজ হয় না।” অন্যদিকে, রাধা স্টুডিয়োর সামনে পৌঁছে ডুকরে কেঁদে ওঠেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালক চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর প্রশ্ন, “কয়েকজন নিরাপত্তা চাইবেন আর বাকিরা তোয়াক্কা না করে কাজ করবেন! এটা কেন হবে?”
আগে থেকেই জানা গিয়েছিল, এই মিছিলে সরাসরি আহ্বায়ক হিসেবে থাকছে না আর্টিস্ট ফোরাম। সভাপতি শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়দের দেখা না গেলেও ব্যক্তিগতভাবে মিছিলে পা মেলান ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, রূপাঞ্জনা মিত্রের মতো বহু সদস্য। রূপাঞ্জনা স্পষ্ট জানান, “আমরা যা করছি, রাহুলের ছেলে সহজের ভবিষ্যতের জন্যই করছি।”
এই ঘটনায় তদন্তের দাবিতে ইতিমধ্যেই এফআইআর দায়ের করেছেন রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। সেই লড়াইয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণারা। কিন্তু ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ প্রযোজনা সংস্থার নীরবতা যে ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালছে, তা এদিনের জনসমুদ্রই প্রমাণ করে দিল।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন