আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তেহরানের নাকের ডগা দিয়ে জখম মার্কিন পাইলটকে উদ্ধার করে আনল আমেরিকার বিশেষ বাহিনী। চরম উত্তেজনার আবহে মধ্যরাতে ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে এই রুদ্ধশ্বাস অপারেশন চালায় মার্কিন বায়ুসেনা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে এই অভিযানের সাফল্যের কথা ঘোষণা করে দাবি করেছেন, সামরিক শক্তিতে আমেরিকাই যে বিশ্বসেরা, তা আবারও প্রমাণিত।
গত শুক্রবার আমেরিকার একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান গুলি করে নামায় ইরানি ফৌজ। বিমানে থাকা দুই পাইলট প্যারাস্যুটের সাহায্যে ঝাঁপ দিলেও, একজন নিখোঁজ হয়ে যান। পরিস্থিতি জটিল হয় যখন ইরান সরকার ওই মার্কিন পাইলটকে জীবন্ত ধরার জন্য বিশাল পুরস্কার ঘোষণা করে। শুরু হয় এক চরম স্নায়ুযুদ্ধ। কে আগে খুঁজে পাবে পাইলটকে? তেহরান নাকি ওয়াশিংটন?
আল জাজিরার রিপোর্ট অনুযায়ী, কয়েকশো বিশেষ প্রশিক্ষিত মার্কিন কমান্ডো গভীর রাতে ঘুটঘুটে অন্ধকারে ইরানে প্রবেশ করেন। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে জখম পাইলটের অবস্থান চিহ্নিত করা হয়। এরপর চলে সেই নাটকীয় উদ্ধারকাজ।
অভিযান যখন প্রায় সফল, সেই সময়, সীমান্ত পার হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে যায় ইরানের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। শুরু হয় তীব্র গুলির লড়াই। চারিদিক থেকে ধেয়ে আসে ইরানি ফৌজের বুলেট। তবে, মার্কিন কমান্ডোরা সেই বাধা উপেক্ষা করেই জখম পাইলটকে সুরক্ষিত স্থানে সরিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হন বলে দাবি করা হচ্ছে।
ট্রাম্প যদিও দাবি করেছেন, কেবল একজন নয়, শনিবার আরও এক আটকে পড়া পাইলটকে উদ্ধার করেছে তাঁর বাহিনী। তিনি বলেন, "আমার নির্দেশেই এই অপারেশন হয়েছে। আমরা অনেকগুলি যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছিলাম - যেগুলি মারণাস্ত্রে সজ্জিত ছিল।" ট্রাম্পের দাবি, এই অভিযানে কোনও মার্কিন সেনার প্রাণহানি হয়নি বা চোট লাগেনি। উদ্ধার হওয়া পাইলট বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠল বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। ইরানের কড়া নজরদারি এড়িয়ে আমেরিকার এই অপারেশন তেহরানের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন