সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় পরিচিত মুখ, জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার শমীক অধিকারীকে ওরফে “ননসেন”- কে ঘিরে কয়েক মাস আগে যে অভিযোগ উঠেছিল, তা রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছিল। সম্পর্কের ভরসা ভেঙে গিয়ে কীভাবে ভয়ঙ্কর অভিযোগের রূপ নিতে পারে—এই ঘটনাই যেন তার বড় উদাহরণ।
ফেব্রুয়ারির শুরুতে এক তরুণী অভিযোগ করেন, শমীক তাঁকে নিজের ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে গিয়ে প্রায় ২৪ ঘণ্টা আটকে রাখেন। শুধু তাই নয়, তাঁর ওপর শারীরিক অত্যাচার ও যৌন হেনস্থার অভিযোগও তোলেন ওই তরুণী। অভিযোগ অনুযায়ী, বিকেল প্রায় সাড়ে পাঁচটার দিকে তিনি শমীকের বাড়িতে যান। রাত ন’টার দিকে বেরিয়ে আসতে চাইলে তাঁকে বাধা দেওয়া হয়। কেন তিনি অন্য কারও সঙ্গে কথা বলছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। এমনকি খুনের হুমকি দিয়ে মারধর করা হয় এবং তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁকে স্পর্শ করা হয় বলেও দাবি করেন নির্যাতিতা।
এই ঘটনার পর বেহালা থানায় এফআইআর দায়ের হয়। পুলিশের তরফে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয় এবং শমীক অধিকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাটি সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়। তবে গত মার্চ মাসে তিনি জামিনে মুক্তি পান। সেই সময় তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, জীবনের কঠিন মুহূর্তে তিনি বুঝতে পেরেছেন—সবাই পাশে থাকে না, শুধু বাবা-মাই শেষ পর্যন্ত ভরসা হয়ে দাঁড়ায়।
এই প্রেক্ষাপটে, দীর্ঘদিন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকার পর আবার সামনে এলেন শমীক। শনিবার রাতে নিজের পেজে একটি ভিডিও পোস্ট করেন তিনি। সেখানে সরাসরি মামলার বিষয়ে কিছু না বললেও, জীবনের কঠিন বাস্তবতা নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। ভিডিওয়ে তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেন, একজন মানুষের জীবনে যতই পরিচিতি বা সম্পর্ক থাকুক না কেন, দুঃসময়ের প্রকৃত বন্ধু কেবল পরিবার, বিশেষ করে বাবা-মা।
তবে এই পুরো ঘটনা ঘিরে এখনও নানা প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে। একদিকে গুরুতর অভিযোগ, অন্যদিকে অভিযুক্তের নিজের বক্তব্য—সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন সম্পূর্ণভাবে আইনের বিচারাধীন। সত্যিটা ঠিক কী, তা শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়েই স্পষ্ট হবে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন