কলকাতা: বাংলার চিকিৎসা ব্যবস্থার মানচিত্রে যে মানুষটি নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন, এবার তিনি পাড়ি দিলেন অনন্তের পথে। ১০৬ বছর বয়সে নিঃশব্দে ফুরোল ডাঃ মণি কুমার ছেত্রীর মহাকাব্যিক পথচলা। ১৯২০ সালে দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি কোলে যাঁর জীবন শুরু হয়েছিল, ১৯৪৪ সালে চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতক হওয়ার পর তিনি আর পিছন ফিরে তাকাননি। ১৯৫৫ সালে লন্ডনের রয়্যাল কলেজ অফ ফিজিসিয়ানস থেকে ডিগ্রি অর্জন করে যখন তিনি দেশে ফেরেন, তখন এ রাজ্যের চিকিৎসা পরিকাঠামোয় এক সন্ধিক্ষণ চলছে। বিশেষ করে বিধানচন্দ্র রায়ের পরবর্তী স্তবিরতা কাটিয়ে এসএসকেএম হাসপাতালকে আধুনিক রূপ দেওয়ার পিছনে প্রধান কারিগর ছিলেন তিনিই।
আজ আমরা সরকারি হাসপাতালে আইটিইউ (ITU) থেকে শুরু করে কার্ডিওলজি, নেফ্রোলজি বা এন্ডোক্রিনোলজির মতো যে বিশেষায়িত বিভাগগুলো দেখি, তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল তাঁরই হাত ধরে। সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন এক দক্ষ প্রশাসক, আর ছাত্রদের কাছে ‘টিচার অফ টিচার্স’। দুর্ভিক্ষের প্রভাব থেকে শুরু করে আধুনিক হৃদরোগের চিকিৎসা— গবেষণার প্রতিটি আঙিনায় তাঁর বিচরণ ছিল বিস্ময়কর। ১০০ বছর পেরিয়েও তাঁর কর্মস্পৃহা ম্লান হয়নি; এসএসকেএম-এর রোনাল্ড রস বিল্ডিংয়ে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি নবীন চিকিৎসকদের কাছে ছিল এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা। ১৯৭৪ সালে পদ্মশ্রী সম্মান পেলেও, তাঁর শ্রেষ্ঠ সম্মান লুকিয়ে আছে সেই অসংখ্য মানুষের কৃতজ্ঞতায়, যাঁদের জন্য তিনি একটি মজবুত চিকিৎসা পরিষেবা রেখে গেছেন। আজ তাঁর প্রয়াণে কেবল শোক নয়, প্রশ্ন থেকে যায়— তাঁর গড়ে দেওয়া সেই মানবিক ও আধুনিক চিকিৎসার ঐতিহ্যকে কি আমরা আগামীর পথে সযত্নে বয়ে নিয়ে যেতে পারব?
বিনম্র শ্রদ্ধা, বাংলার চিকিৎসা ইতিহাসের অমর নক্ষত্র ডাঃ মণি কুমার ছেত্রীকে।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন