ভ্যাটিকান সিটি: বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের দামামা আর পেশির আস্ফালনের মাঝে এবার মুখোমুখি দুই প্রধান। তাঁদের একজন রাষ্ট্রপ্রধান এবং অন্যজন ধর্মীয় প্রধান! আর, এখানে অন্তত লড়াইটা সমরাস্ত্রের নয়, আদর্শের এবং নীতি ও নৈতিকতার।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি কটাক্ষের পালটা জবাব দিলেন ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ লিও। সপাট জানিয়ে দিলেন, হোয়াইট হাউসের রক্তচক্ষু বা ট্রাম্প প্রশাসনকে তিনি বিন্দুমাত্র ভয় পান না। মানবতার খাতিরে শান্তির পক্ষে সওয়াল তিনি চালিয়েই যাবেন।
সম্প্রতি ইরান ও আমেরিকার মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার আবহে বিশ্ব শান্তির ডাক দিয়েছিলেন পোপ লিও। কোনও বিশেষ দেশের নাম না নিলেও তিনি ‘ক্রমবর্ধমান আগ্রাসনে’র নিন্দা করেছিলেন। এতেই চটে যান ট্রাম্প। পোপকে ‘অপরাধ দমনে দুর্বল’ এবং ‘বিদেশ নীতির জন্য ভয়াবহ’ বলে কটাক্ষ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের দাবি ছিল, পোপের এই নমনীয়তা আদতে শত্রুপক্ষের সুবিধা করে দিচ্ছে।
এরপরই সোমবার এক বিমান সফরের সময় সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের সমস্ত অভিযোগ নসাৎ করে দেন পোপ লিও। তিনি বলেন, “ট্রাম্প প্রশাসনকে নিয়ে আমার কোনও ভয় নেই। আমাদের শান্তির আবেদন খ্রিস্টীয় শিক্ষার উপর ভিত্তি করে তৈরি, কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়। প্রেসিডেন্ট হয়তো আমার বার্তার গভীরতা বুঝতে পারছেন না।”
পোপ লিও স্পষ্ট করে দেন, ইরান যুদ্ধ বা যেকোনও সশস্ত্র সংঘাতের বিরুদ্ধে তাঁর কণ্ঠস্বর আগের মতোই সোচ্চার থাকবে। ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বিতর্কে না জড়ালেও পোপের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, “কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থে ধর্মের বাণীর অপব্যবহার করছে, যা একদমই উচিত নয়।” তিনি আরও জানান, সমস্যার সমাধানের একমাত্র পথ হল বহুপাক্ষিক আলোচনা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি, যুদ্ধ নয়।
ভ্যাটিকান বনাম ওয়াশিংটনের এই নজিরবিহীন বাকযুদ্ধ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল। একদিকে যখন ট্রাম্প সামরিক শক্তির প্রদর্শনীতে ব্যস্ত, তখন পোপের এই নির্ভীক অবস্থান বিশ্বজুড়ে শান্তিকামী মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করছে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন