তেহরান: পশ্চিম এশিয়ার আকাশে জমতে থাকা যুদ্ধের কালো মেঘ কি তবে এবার কাটতে চলেছে? গোটা বিশ্বের নজর এখন পাকিস্তানের দিকে! কূটনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বসতে চলেছে পাকিস্তানের মাটিতেই। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতিনিধিরা মুখোমুখি হতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করেছে এবং চাঙ্গা হয়েছে শেয়ার বাজার।
প্রথম দফায় জে ডি ভান্স ও আব্বাস আরাঘচির মধ্যে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক হয়েছিল পাকিস্তানেই। যদিও সেই বৈঠক থেকে কোনও রফাসূত্র মেলেনি। ফলে, দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য জেনেভা বা পাকিস্তানের মধ্যে কোনও একটি নিরপেক্ষ স্থানকে বেছে নেওয়ার কথা ওঠে। তবে, বিশ্ব দরবারে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এই শান্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে মরিয়া ইসলামাবাদ। সেই কারণেই, আমেরিকার ট্রাম্প প্রশাসন এবং ইরানের সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধন করতে পাকিস্তান ফের তেড়েফুঁড়ে মাঠে নেমেছে।
প্রথম দফার বৈঠকে মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল ইরানের ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার। আমেরিকা দাবি করেছিল, আগামী ২০ বছর ইরান তাদের ইউরেনিয়াম ব্যবহার করতে পারবে না। কিন্তু, তেহরান সেই প্রস্তাব পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়ে জানায়, তারা সর্বোচ্চ ৫ বছরের জন্য পরমাণু কর্মসূচি স্থগিত রাখতে পারে। ইউরেনিয়ামের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীর অবরোধ এবং সংঘর্ষবিরতি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল।
দ্বিতীয় দফার এই বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হতেই বিশ্ব অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটবে - এই আশায় অপরিশোধিত তেলের দাম যেমন কমেছে, তেমনই ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ার বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গিয়েছে।
এখন দেখার, দ্বিতীয় দফার এই আলোচনায় কোনও সমঝোতা আদৌ হয় কিনা। যদি বরফ গলে, তবে তা হবে বর্তমান সময়ের সবথেকে বড় কূটনৈতিক সাফল্য।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন