(উত্তরপ্রদেশ): যোগীরাজ্যে ঘটা চিকিৎসা পরিষেবার এক ভয়াবহ গাফিলতির সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। প্রসবকালীন যন্ত্রণায় ছটফট করা এক প্রসূতির গর্ভ থেকে সদ্যোজাতকে টেনে-হিঁচড়ে বের করতে গিয়ে একরত্তি শরীরটাকে দু-টুকরো করে ফেললেন এক আশাকর্মী! সদ্যোজাতের ধড় বেরিয়ে এলেও মাথাটি থেকে গেল মায়ের গর্ভে! অকল্পনীয় এই নিষ্ঠুর ও হাড়হিম করা ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের বস্তি এলাকায়।
জানা গিয়েছে, প্রেমাদেবী নামে সাতমাসের এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে সোমবার অ্যাম্বুল্যান্সে করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়া হচ্ছিল। পথে আচমকা তাঁর প্রসবযন্ত্রণা শুরু হলে অ্যাম্বুল্যান্সে থাকা আশাকর্মী চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা না করে নিজেই প্রসব করানোর সিদ্ধান্ত নেন। অভিযোগ, ব্যথা কমানোর ইঞ্জেকশন দিয়ে জোর করে স্বাভাবিক প্রসব করানোর চেষ্টা করেন তিনি।
প্রেমার স্বামী নীরজ কুমারের দাবি, আশাকর্মী তাঁর সন্তানকে সজোরে টেনে বের করার চেষ্টা করতেই ঘটে বিপত্তি। শিশুর শরীরের নীচের অংশ বেরিয়ে এলেও মাথাটি বিচ্ছিন্ন হয়ে মায়ের গর্ভেই আটকে যায়! এই অবস্থায় মহিলার রক্তক্ষরণ শুরু হলে এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আশাকর্মী হাত গুটিয়ে নেন।
প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতাল ঝুঁকি নিতে না চাইলেও, পরে জেলা সরকারি হাসপাতালে প্রেমাদেবীকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করে মহিলার গর্ভ থেকে শিশুর বিচ্ছিন্ন মাথাটি বের করেন। বর্তমানে ওই মহিলা চিকিৎসকদের কড়া পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
এই পৈশাচিক ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্ত আশাকর্মী এবং তাঁর সঙ্গী স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রসূতির স্বামী। পুলিশ মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। যদিও জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও প্রশাসনিক পদক্ষেপ করেনি বলেই অভিযোগ। যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
প্রশিক্ষণহীন আশাকর্মীর এমন চরম হঠকারিতা উত্তরপ্রদেশের গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারাই আরও একবার জনসমক্ষে নিয়ে এল।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন