পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের মেঘ ঘনিয়ে আসায় এবার তার সরাসরি প্রভাব পড়ল বাঙালির নববর্ষের মিষ্টিতে। পরিস্থিতি এমনই যে, এবার পয়লা বৈশাখের মিষ্টি আর অন্যবারের মতো অতটা ‘মিষ্টি’ লাগছে না মধ্যবিত্তের কাছে। জ্বালানি তেলের বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা এবং রান্নার গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জেরে শহর থেকে মফস্বল— সর্বত্রই মিষ্টির দোকানে রীতিমতো আগুন লেগেছে। প্রতিবার হালখাতা উপলক্ষে মিষ্টির চাহিদা তুঙ্গে থাকলেও এবার আকাশছোঁয়া খরচের কারণে অনেক ছোট ও মাঝারি দোকানদার অগ্রিম অর্ডার নিতেই ভয় পাচ্ছেন। মূলত চড়া দামে এলপিজি সিলিন্ডার কেনা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় মিষ্টির কারিগররা চরম সংকটে পড়েছেন।
মিষ্টিশিল্প সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত কয়েকদিনে মিষ্টির দাম গড়ে ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। শুধু উপকরণের দামই নয়, প্যাকিংয়ের জন্য ব্যবহৃত পলিমারের দাম বাড়ায় প্যাকেজিং খরচও প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বিপুল ব্যয়ভার সামলাতে ব্যবসায়ীরা নিরুপায় হয়েই দাম বাড়াচ্ছেন। অনেক দোকানে আবার ক্রেতার কথা ভেবে দাম খুব বেশি না বাড়িয়ে মিষ্টির আকার ছোট করে দেওয়া হয়েছে। বাজারে যে মিষ্টির দাম আগে ছিল ১০ টাকা, তা এখন বিকোচ্ছে ১৫ টাকায়; আবার ১৫ টাকার মিষ্টির দাম পৌঁছেছে ২০ টাকায়। গড়ে প্রতিটি মিষ্টির দাম ৫ টাকা করে বেড়ে যাওয়ায় মিষ্টির হাঁড়িতে হাত দিতে গিয়ে রীতিমতো ছ্যাঁকা খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, এপ্রিলের শুরুতে পরিস্থিতি কিছুটা থিতু হওয়ার আশা জাগলেও গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হওয়ায় গ্যাসের সরবরাহ এখনও অনিয়মিত। একদিকে চড়া দাম আর অন্যদিকে অনিশ্চয়তা— এই সাঁড়াশি চাপে পড়ে বহু দোকান তাদের উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। মিষ্টির দোকানের চেনা ভিড়ও এবার কিছুটা পাতলা, কারণ পকেটের টানে অনেকেই কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছেন। যুদ্ধের দামামা যে সুদূর বাংলায় বসে বাঙালির পয়লা বৈশাখের পাতে এমন প্রভাব ফেলবে, তা বোধহয় কদিন আগেও ভাবেননি কেউ।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন