Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

মহিলা সংরক্ষণের আড়ালে কি ‘বঙ্গভঙ্গের চক্রান্ত’? লোকসভায় পুনর্বিন্যাস বিল নিয়ে সরব মমতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬
মহিলা সংরক্ষণের আড়ালে কি ‘বঙ্গভঙ্গের চক্রান্ত’? লোকসভায় পুনর্বিন্যাস বিল নিয়ে সরব মমতা
প্রতীকী ছবি

কেন্দ্রের প্রস্তাবিত ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বা মহিলা সংরক্ষণ বিলকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি। এই ইস্যুতেই এবার কোচবিহারের ঘোকসাডাঙার জনসভা থেকে বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের দাবিকে তৃণমূল কংগ্রেস বরাবরই সমর্থন জানিয়ে এসেছে, কিন্তু বিলটির সঙ্গে ‘আসন পুনর্বিন্যাস’ বা ডিলিমিটেশনকে জুড়ে দেওয়া নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।


 মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশঙ্কা, এই বিলের আড়ালে আসলে বাংলাকে ভাগ করার এবং এনআরসি (NRC) কার্যকর করে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার এক গভীর চক্রান্ত লুকিয়ে রয়েছে। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, বিলটি তো দীর্ঘকাল পড়ে ছিল, তবে এখন কেন জনবিন্যাসের শর্ত জুড়ে দিয়ে বাংলাকে দুর্বল করার চেষ্টা হচ্ছে?


২০২৩ সালে যখন এই বিল পাশ হয়েছিল, তখন বলা হয়েছিল জনগণনার পরেই আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে এবং তার ভিত্তিতেই মহিলারা সংরক্ষণ পাবেন। এর ফলে লোকসভার আসন ৫৪৩ থেকে বেড়ে প্রায় ৮৫০ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে মোদী সরকার আর নতুন জনগণনার অপেক্ষা না করে ২০১১ সালের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতেই পুনর্বিন্যাস সেরে ফেলতে চাইছে। বিরোধীদের দাবি, এই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক স্বার্থ। বিশেষ করে ইন্ডিয়া (INDIA) শিবিরের আশঙ্কা, উত্তর ভারতের তুলনায় দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলো এতে সংসদীয় গুরুত্ব হারাবে।


বর্তমানে এই বিলটি পাশ করানো মোদী সরকারের কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ। সংবিধান সংশোধনীর এই বিল পাশ করতে গেলে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। গাণিতিক হিসেব বলছে, লোকসভায় ৫৪৩ জন সদস্য উপস্থিত থাকলে বিলের পক্ষে ৩৬২টি ভোট প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে এনডিএ-র হাতে রয়েছে ২৯৩টি আসন, যেখানে ইন্ডিয়া জোটের শক্তি ২৩০ থেকে ২৪০-এর ঘরে। ফলে সংসদের ভোটাভুটির দিন সাংসদদের উপস্থিতি এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।

বিষয় : Mamata Banerjee POLITICAL CHAOS centralgovernment DELIMI

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


মহিলা সংরক্ষণের আড়ালে কি ‘বঙ্গভঙ্গের চক্রান্ত’? লোকসভায় পুনর্বিন্যাস বিল নিয়ে সরব মমতা

প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
কেন্দ্রের প্রস্তাবিত ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বা মহিলা সংরক্ষণ বিলকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি। এই ইস্যুতেই এবার কোচবিহারের ঘোকসাডাঙার জনসভা থেকে বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের দাবিকে তৃণমূল কংগ্রেস বরাবরই সমর্থন জানিয়ে এসেছে, কিন্তু বিলটির সঙ্গে ‘আসন পুনর্বিন্যাস’ বা ডিলিমিটেশনকে জুড়ে দেওয়া নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশঙ্কা, এই বিলের আড়ালে আসলে বাংলাকে ভাগ করার এবং এনআরসি (NRC) কার্যকর করে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার এক গভীর চক্রান্ত লুকিয়ে রয়েছে। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, বিলটি তো দীর্ঘকাল পড়ে ছিল, তবে এখন কেন জনবিন্যাসের শর্ত জুড়ে দিয়ে বাংলাকে দুর্বল করার চেষ্টা হচ্ছে?২০২৩ সালে যখন এই বিল পাশ হয়েছিল, তখন বলা হয়েছিল জনগণনার পরেই আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে এবং তার ভিত্তিতেই মহিলারা সংরক্ষণ পাবেন। এর ফলে লোকসভার আসন ৫৪৩ থেকে বেড়ে প্রায় ৮৫০ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে মোদী সরকার আর নতুন জনগণনার অপেক্ষা না করে ২০১১ সালের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতেই পুনর্বিন্যাস সেরে ফেলতে চাইছে। বিরোধীদের দাবি, এই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক স্বার্থ। বিশেষ করে ইন্ডিয়া (INDIA) শিবিরের আশঙ্কা, উত্তর ভারতের তুলনায় দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলো এতে সংসদীয় গুরুত্ব হারাবে।বর্তমানে এই বিলটি পাশ করানো মোদী সরকারের কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ। সংবিধান সংশোধনীর এই বিল পাশ করতে গেলে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। গাণিতিক হিসেব বলছে, লোকসভায় ৫৪৩ জন সদস্য উপস্থিত থাকলে বিলের পক্ষে ৩৬২টি ভোট প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে এনডিএ-র হাতে রয়েছে ২৯৩টি আসন, যেখানে ইন্ডিয়া জোটের শক্তি ২৩০ থেকে ২৪০-এর ঘরে। ফলে সংসদের ভোটাভুটির দিন সাংসদদের উপস্থিতি এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার