মালদহের মোথাবাড়িতে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত বিচারকদের ঘেরাও এবং হেনস্থার ঘটনায় আইনি লড়াই এবার ভিন্ন মোড় নিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই স্পর্শকাতর মামলার তদন্তভার হাতে নেওয়ার পর থেকেই অত্যন্ত সক্রিয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। বৃহস্পতিবার কলকাতার নগর দায়রা আদালতে শুনানির সময় তদন্তকারীরা এই ঘটনায় ধৃত ৪৯ জনের মধ্যে ১২ জনকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানান। কেন্দ্রীয় সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার শিকড়ে পৌঁছাতে এবং নেপথ্যের বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের হদিস পেতে এই ১২ জনকে জেরা করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে, বাকি ৩৭ জনকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর আর্জি জানানো হয়েছে।
এদিনের শুনানিতে মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন এই ঘটনার তথাকথিত মূলচক্রী মোফাক্কেরুল ইসলাম। তাঁর আইনজীবী আদালতে জামিনের আবেদন জানিয়ে দাবি করেন যে, তাঁর মক্কেলকে নেহাতই ‘বলির পাঁঠা’ করা হচ্ছে এবং এই ঘটনার পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র লুকিয়ে রয়েছে। যদিও রাজ্য পুলিশ আগে থেকেই তাঁকে এই কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। উল্লেখ্য, এপ্রিলের শুরুতে কালিয়াচক-২ বিডিও অফিসে ভোটার তালিকা নিষ্পত্তির (SIR) কাজ চলাকালীন সাত জন বিচারককে যেভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা এবং অভুক্ত রাখার অভিযোগ উঠেছিল, তা নাড়িয়ে দিয়েছিল বিচারবিভাগকেও।
ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। যার জেরে তৎকালীন মুখ্যসচিব থেকে শুরু করে রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং মালদহের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে অপসারিত হতে হয়েছিল। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ১২টি এফআইআর-এর ভিত্তিতে জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছে এনআইএ। ভোটের ঠিক মুখে মালদহের এই অশান্তি এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার এই তৎপরতা যে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এখন আদালতের রায়ের ওপরই নির্ভর করছে ১২ অভিযুক্তের পরবর্তী গন্তব্য।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন