২০২৬-এর বাংলা বিধানসভা নির্বাচনে জঙ্গলমহলের ভোট সমীকরণ ওলটপালট করতে এবার ময়দানে নামছেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী তথা জেএমএম সুপ্রিমো হেমন্ত সোরেন। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশেষ আহ্বানে সাড়া দিয়ে শনিবার পুরুলিয়া থেকেই বঙ্গে নিজের নির্বাচনী প্রচার শুরু করছেন তিনি। তৃণমূল প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করতে এদিন পুরুলিয়ার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র— বান্দোয়ান, মানবাজার এবং কাশীপুরে ম্যারাথন জনসভা করবেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, হেমন্ত সোরেনের পাশাপাশি এই প্রচার অভিযানে তাঁর সঙ্গে থাকতে পারেন তাঁর স্ত্রী কল্পনা সোরেনও, যা জঙ্গলমহলের আদিবাসী ভোটারদের মধ্যে বাড়তি উন্মাদনা তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শনিবারের এই মেগা প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ক। প্রথম সভাটি অনুষ্ঠিত হবে বান্দোয়ান বিধানসভার আঁকরোতে, যেখানে প্রার্থী হয়েছেন জেলা তৃণমূল সভাপতি রাজীবলোচন সোরেন। এরপর মানবাজারের লাখরার বদড়া ফুটবল ময়দানে রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডুর সমর্থনে সুর চড়াবেন হেমন্ত। সবশেষে কাশীপুরের ধানাড়া ফুটবল ময়দানে তৃণমূল প্রার্থী সৌমেন বেলথরিয়ার সমর্থনে বক্তব্য রাখবেন তিনি। উল্লেখ্য, বান্দোয়ান ও মানবাজারের মতো সংরক্ষিত আসনে বিপুল সংখ্যক আদিবাসী ভোটারের উপস্থিতি থাকায় হেমন্ত সোরেনের উপস্থিতি শাসক শিবিরের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
রাজনৈতিক মহলের মতে, আদিবাসী সমাজের আবেগকে ছুঁতে হেমন্ত সোরেনকে তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিশেষত, প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডে বিজেপির ‘আচ্ছে দিন’-এর প্রতিশ্রুতি যেভাবে ব্যর্থ হয়েছে এবং জেএমএম যেভাবে সেখানে জমি শক্ত করেছে, সেই উদাহরণই বাংলার আদিবাসী মানুষের সামনে তুলে ধরবেন হেমন্ত। বিজেপির তথাকথিত ‘জুমলাবাজি’ ফাঁস করে আদিবাসী ভোট নিজেদের অনুকূলে আনাই ঘাসফুল শিবিরের মূল লক্ষ্য। হেমন্ত সোরেনের এই সফরকে ঘিরে পুরুলিয়ার তিন প্রার্থীর মধ্যেই দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ, এখন দেখার জঙ্গলমহলের মাটিতে এই ‘সোরেন ম্যাজিক’ কতটা প্রভাব ফেলে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন