Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ভিনরাজ্যে বাঙালির রক্ত ঝরা নিয়ে ‘উল্লাস’ লাল-হলুদের! মোক্ষম জবাব মোহনবাগান প্রেসিডেন্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬
ভিনরাজ্যে বাঙালির রক্ত ঝরা নিয়ে ‘উল্লাস’ লাল-হলুদের! মোক্ষম জবাব মোহনবাগান প্রেসিডেন্টের
ছবি সংগৃহীত

কলকাতা: ফুটবল মাঠের লড়াই চিরকালই আবেগের। কিন্তু, সেই আবেগ কি এবার মানবিকতার সীমা ছাড়িয়ে গেল? বৃহস্পতিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বেঙ্গালুরু এফসি-র বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের রুদ্ধশ্বাস ড্র-এর মাঝেই গ্যালারির একটি বিশেষ টিফো নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। সম্প্রতি জামশেদপুরে মোহনবাগান সমর্থকদের প্রহৃত হওয়ার ঘটনাকে সাধুবাদ জানিয়ে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের একাংশের প্রদর্শিত ওই টিফোকে ‘গোটা বাংলার অপমান’ বলে তোপ দাগলেন মোহনবাগান প্রেসিডেন্ট দেবাশিস দত্ত।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৪ এপ্রিল। জামশেদপুরে অ্যাওয়ে ম্যাচ দেখতে গিয়ে স্থানীয় পুলিশ ও সমর্থকদের হাতে গুরুতর জখম হন বেশ কয়েকজন মোহনবাগান ভক্ত। রাজীব রায়, রিপন মণ্ডলের মতো সমর্থকদের কারও মাথায় ১০টি সেলাই পড়েছিল। কেউ বা রক্তাক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু, বৃহস্পতিবার যুবভারতীতে ইস্টবেঙ্গল গ্যালারিতে সেই ঘটনার হোতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে ঝোলানো হয় ব্যানার - ‘Well Done Jamshedpur Police. আসছে বছর আবার হবে’। অর্থাৎ, ভিনরাজ্যে বাঙালির আক্রান্ত হওয়াকেই ‘সুসংবাদ’ হিসাবে তুলে ধরেছে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের ওই অংশ।


সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্টে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন মোহনবাগান প্রেসিডেন্ট দেবাশিস দত্ত। তাঁর প্রশ্ন, মাঠের লড়াই কি আমাদের জাত্যাভিমানকেও হারিয়ে দিল? তিনি লেখেন, “জামশেদপুরে আক্রান্ত মোহনবাগান সমর্থকদের যে রক্ত ঝরেছিল, তা কোনও নির্দিষ্ট ক্লাবের নয়, তা ছিল একজন বাঙালির। ভিনরাজ্যে গিয়ে যখন নিজের রাজ্যের মানুষ লাঞ্ছিত হয়, তখন সেটা গোটা বাংলার অপমান। আর কলকাতায় ইস্টবেঙ্গল গ্যালারিতে যখন সেই ঘটনার হোতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে ব্যানার ঝোলানো হয়, তখন মাথা লজ্জায় নত হয়ে আসে।” দেবাশিসের মতে, এই ভাষা ফুটবলকে এবং বাংলার চিরকালীন সংহতির ঐতিহ্যকে চরম অপমান করেছে। 

স্টেডিয়ামে যেকোনও টিফো বা ব্যানার ঢোকাতে গেলে পুলিশের কড়া তল্লাশি পেরোতে হয়। সেখানে দাঁড়িয়ে এমন উস্কানিমূলক এবং অপমানজনক একটি ব্যানার কীভাবে গ্যালারিতে পৌঁছল, তাতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।


লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, ওই ম্যাচেই প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি চমৎকার টিফো প্রদর্শন করেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা। যা প্রশংসা কুড়িয়েছিল। কিন্তু, জামশেদপুর পুলিশকে ‘ধন্যবাদ’ জানানো ওই একটি ব্যানার যেন সব ভালো প্রচেষ্টাকেই ধুলোয় মিশিয়ে দিল! 


লাল-হলুদ সমর্থকদের বড় একটি অংশও সোশ্যাল মিডিয়ায় এই কুৎসিত মানসিকতার নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেবল মাঠের ৯০ মিনিটের জন্য হওয়া উচিত। ব্যক্তিগত হিংসা বা আক্রমণের জয়গান গাওয়ার জন্য নয়।

বিষয় : sportsnews mohunbagan eastbengal

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


ভিনরাজ্যে বাঙালির রক্ত ঝরা নিয়ে ‘উল্লাস’ লাল-হলুদের! মোক্ষম জবাব মোহনবাগান প্রেসিডেন্টের

প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
কলকাতা: ফুটবল মাঠের লড়াই চিরকালই আবেগের। কিন্তু, সেই আবেগ কি এবার মানবিকতার সীমা ছাড়িয়ে গেল? বৃহস্পতিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বেঙ্গালুরু এফসি-র বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের রুদ্ধশ্বাস ড্র-এর মাঝেই গ্যালারির একটি বিশেষ টিফো নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। সম্প্রতি জামশেদপুরে মোহনবাগান সমর্থকদের প্রহৃত হওয়ার ঘটনাকে সাধুবাদ জানিয়ে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের একাংশের প্রদর্শিত ওই টিফোকে ‘গোটা বাংলার অপমান’ বলে তোপ দাগলেন মোহনবাগান প্রেসিডেন্ট দেবাশিস দত্ত।ঘটনার সূত্রপাত গত ৪ এপ্রিল। জামশেদপুরে অ্যাওয়ে ম্যাচ দেখতে গিয়ে স্থানীয় পুলিশ ও সমর্থকদের হাতে গুরুতর জখম হন বেশ কয়েকজন মোহনবাগান ভক্ত। রাজীব রায়, রিপন মণ্ডলের মতো সমর্থকদের কারও মাথায় ১০টি সেলাই পড়েছিল। কেউ বা রক্তাক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু, বৃহস্পতিবার যুবভারতীতে ইস্টবেঙ্গল গ্যালারিতে সেই ঘটনার হোতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে ঝোলানো হয় ব্যানার - ‘Well Done Jamshedpur Police. আসছে বছর আবার হবে’। অর্থাৎ, ভিনরাজ্যে বাঙালির আক্রান্ত হওয়াকেই ‘সুসংবাদ’ হিসাবে তুলে ধরেছে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের ওই অংশ।সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্টে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন মোহনবাগান প্রেসিডেন্ট দেবাশিস দত্ত। তাঁর প্রশ্ন, মাঠের লড়াই কি আমাদের জাত্যাভিমানকেও হারিয়ে দিল? তিনি লেখেন, “জামশেদপুরে আক্রান্ত মোহনবাগান সমর্থকদের যে রক্ত ঝরেছিল, তা কোনও নির্দিষ্ট ক্লাবের নয়, তা ছিল একজন বাঙালির। ভিনরাজ্যে গিয়ে যখন নিজের রাজ্যের মানুষ লাঞ্ছিত হয়, তখন সেটা গোটা বাংলার অপমান। আর কলকাতায় ইস্টবেঙ্গল গ্যালারিতে যখন সেই ঘটনার হোতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে ব্যানার ঝোলানো হয়, তখন মাথা লজ্জায় নত হয়ে আসে।” দেবাশিসের মতে, এই ভাষা ফুটবলকে এবং বাংলার চিরকালীন সংহতির ঐতিহ্যকে চরম অপমান করেছে। স্টেডিয়ামে যেকোনও টিফো বা ব্যানার ঢোকাতে গেলে পুলিশের কড়া তল্লাশি পেরোতে হয়। সেখানে দাঁড়িয়ে এমন উস্কানিমূলক এবং অপমানজনক একটি ব্যানার কীভাবে গ্যালারিতে পৌঁছল, তাতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, ওই ম্যাচেই প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি চমৎকার টিফো প্রদর্শন করেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা। যা প্রশংসা কুড়িয়েছিল। কিন্তু, জামশেদপুর পুলিশকে ‘ধন্যবাদ’ জানানো ওই একটি ব্যানার যেন সব ভালো প্রচেষ্টাকেই ধুলোয় মিশিয়ে দিল! লাল-হলুদ সমর্থকদের বড় একটি অংশও সোশ্যাল মিডিয়ায় এই কুৎসিত মানসিকতার নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেবল মাঠের ৯০ মিনিটের জন্য হওয়া উচিত। ব্যক্তিগত হিংসা বা আক্রমণের জয়গান গাওয়ার জন্য নয়।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার