Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ঢাকার হাই কমিশনার হচ্ছেন দীনেশ ত্রিবেদী, ‘সংস্কৃতি’কে হাতিয়ার করে মাস্টারস্ট্রোক দিল্লির

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকার হাই কমিশনার হচ্ছেন দীনেশ ত্রিবেদী, ‘সংস্কৃতি’কে হাতিয়ার করে মাস্টারস্ট্রোক দিল্লির
AI GENERATED PICTURE

নয়াদিল্লি: ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যেকার কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও মসৃণ ও মজবুত করতে এক বড়সড় পদক্ষেপ নিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। সূত্রের খবর, বাংলাদেশের পরবর্তী ভারতীয় হাই কমিশনার হিসেবে অভিজ্ঞ রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে।


 বর্তমানে বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন প্রণয় বর্মা, যাঁকে বেলজিয়ামে পাঠানো হতে পারে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ দীনেশ ত্রিবেদী। কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বোচ্চ স্তরে দীর্ঘ চিন্তাভাবনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান ভোটপর্ব মিটে গেলেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানা যাচ্ছে।


বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দীনেশ ত্রিবেদীর এই নিয়োগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে দুই দেশই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে।


 এই পরিস্থিতিতে দীনেশ ত্রিবেদীকে বেছে নেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ তাঁর বহুমুখী ব্যক্তিত্ব এবং দুই বাংলার সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান। টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করা দীনেশ যেমন ঝরঝরে বাংলা বলতে পারেন, তেমনই তিনি একজন দক্ষ সেতারবাদকও। রবীন্দ্র-নজরুল থেকে শুরু করে দুই বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতি তাঁর নখদর্পণে। ভারত সরকার মনে করছে, তারেক রহমানের সরকারকে ‘বিশেষ বার্তা’ দিতে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জটিলতা কাটাতে একজন ‘সংস্কৃতিমনস্ক বঙ্গভাষী’ হিসেবে দীনেশই হতে পারেন সেরা তুরুপের তাস।


দীনেশ ত্রিবেদীর রাজনৈতিক জীবনও যথেষ্ট বৈচিত্র্যময়। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। মনমোহন সিংহ সরকারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং পরবর্তীকালে রেলমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন। রেল ভাড়া বাড়ানো নিয়ে তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে দূরত্বের জেরে অবশেষে ২০২১ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। 


ব্যারাকপুরের প্রাক্তন এই সাংসদের কূটনৈতিক দক্ষতা এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাকে এবার সরাসরি আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাজে লাগাতে চাইছে দিল্লি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে, খুব শীঘ্রই এক বাংলা থেকে আর এক বাংলায় গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক দায়িত্ব নিয়ে পাড়ি দেবেন দীনেশ ত্রিবেদী, যার হাত ধরে দিল্লি-ঢাকা সম্পর্কের নতুন সুর বাজিবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিষয় : Narendra Modi Tareq Rahman india bangladesh relation dineshtrivedi kolkatatodhaka highcommissoner

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


ঢাকার হাই কমিশনার হচ্ছেন দীনেশ ত্রিবেদী, ‘সংস্কৃতি’কে হাতিয়ার করে মাস্টারস্ট্রোক দিল্লির

প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি: ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যেকার কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও মসৃণ ও মজবুত করতে এক বড়সড় পদক্ষেপ নিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। সূত্রের খবর, বাংলাদেশের পরবর্তী ভারতীয় হাই কমিশনার হিসেবে অভিজ্ঞ রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন প্রণয় বর্মা, যাঁকে বেলজিয়ামে পাঠানো হতে পারে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ দীনেশ ত্রিবেদী। কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বোচ্চ স্তরে দীর্ঘ চিন্তাভাবনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান ভোটপর্ব মিটে গেলেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানা যাচ্ছে।বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দীনেশ ত্রিবেদীর এই নিয়োগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে দুই দেশই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দীনেশ ত্রিবেদীকে বেছে নেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ তাঁর বহুমুখী ব্যক্তিত্ব এবং দুই বাংলার সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান। টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করা দীনেশ যেমন ঝরঝরে বাংলা বলতে পারেন, তেমনই তিনি একজন দক্ষ সেতারবাদকও। রবীন্দ্র-নজরুল থেকে শুরু করে দুই বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতি তাঁর নখদর্পণে। ভারত সরকার মনে করছে, তারেক রহমানের সরকারকে ‘বিশেষ বার্তা’ দিতে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জটিলতা কাটাতে একজন ‘সংস্কৃতিমনস্ক বঙ্গভাষী’ হিসেবে দীনেশই হতে পারেন সেরা তুরুপের তাস।দীনেশ ত্রিবেদীর রাজনৈতিক জীবনও যথেষ্ট বৈচিত্র্যময়। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। মনমোহন সিংহ সরকারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং পরবর্তীকালে রেলমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন। রেল ভাড়া বাড়ানো নিয়ে তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে দূরত্বের জেরে অবশেষে ২০২১ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। ব্যারাকপুরের প্রাক্তন এই সাংসদের কূটনৈতিক দক্ষতা এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাকে এবার সরাসরি আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাজে লাগাতে চাইছে দিল্লি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে, খুব শীঘ্রই এক বাংলা থেকে আর এক বাংলায় গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক দায়িত্ব নিয়ে পাড়ি দেবেন দীনেশ ত্রিবেদী, যার হাত ধরে দিল্লি-ঢাকা সম্পর্কের নতুন সুর বাজিবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার