কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আর মাত্র তিন দিন বাকি। এই পরিস্থিতিতে সমাজমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপপ্রচার রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করল ভারতীয় নির্বাচন কমিশন। রবিবার এক বিশেষ নির্দেশিকায় কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, রাজনৈতিক প্রচারে যদি ‘এআই’ (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হয়, তবে সেখানে বাধ্যতামূলকভাবে ‘এআই নির্মিত’ বা ‘AI Generated’ লেবেল লাগাতে হবে। ডিজিটাল দুনিয়ায় কোনো ভুয়ো খবর বা প্ররোচনামূলক পোস্টের মাধ্যমে যাতে ভোটাররা বিভ্রান্ত না হন, তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর অবস্থান।
কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাজমাধ্যমে কোনো বিভ্রান্তিকর বা বেআইনি পোস্ট চোখে পড়লে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মকে তা সরানোর জন্য সর্বোচ্চ ৩ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১২৬ ধারা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে ডিজিটাল দুনিয়ায় কোনোভাবেই নির্বাচনী প্রচার চালানো যাবে না। গত ১৫ মার্চ নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গ-সহ পশ্চিমবঙ্গ, অসম, তামিলনাড়ু, কেরালা ও পুদুচেরীর সমাজমাধ্যমের ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে কমিশনের সাইবার সেল। এই সময়ের মধ্যে প্রায় ১১ হাজারেরও বেশি বিতর্কিত পোস্ট চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেগুলির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
সাধারণ নাগরিকদের জন্য অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়াকেও আরও গতিশীল করেছে কমিশন। সি-ভিজিল (cVIGIL) অ্যাপ ও পোর্টালে ১৫ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত ৩ লক্ষ ২৩ হাজারেরও বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে, যার মধ্যে ৯৬ শতাংশেরই নিষ্পত্তি করা হয়েছে মাত্র ১০০ মিনিটের মধ্যে। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। তার আগে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যাতে কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, তার জন্য সাইবার নোডাল অফিসারদের বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের এই পদক্ষেপের ফলে এবারের নির্বাচনে এআই-ডিপফেক বা ডিজিটাল প্রতারণার ঝুঁকি অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন