Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

যীশুর মূর্তি ভাঙল ইজরায়েলি সেনা! বামিয়ানের তালিবানি বর্বরতার ছায়া লেবাননে? বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬
যীশুর মূর্তি ভাঙল ইজরায়েলি সেনা! বামিয়ানের তালিবানি বর্বরতার ছায়া লেবাননে? বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়
ছবি সংগৃহীত

বেইরুট: ইতিহাসের চাকা কি তবে উল্টো দিকে ঘুরছে? কয়েক দশক আগে আফগানিস্তানের বামিয়ানে ডিনামাইট দিয়ে বুদ্ধমূর্তি উড়িয়ে তালিবানি যে বর্বরতার সাক্ষী হয়েছিল বিশ্ব, আজ দক্ষিণ লেবাননের মাটিতে যেন তারই পুনরাবৃত্তি ঘটাল ইজরায়েলি সেনা! তাদেরই এক সদস্যের এক হাতে বন্দুক আর অন্য হাতে হাতুড়ি নিয়ে যীশু খ্রিস্টের মূর্তি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ছবি ভাইরাল হতেই শিউরে উঠছে আন্তর্জাতিক মহল। প্রশ্ন উঠছে, উগ্র মৌলবাদী তালিবান আর আধুনিক ইজরায়েলি সেনার মধ্যে তবে কি আর কোনও ফারাক রইল না?


প্যালেস্তিনীয় সাংবাদিক ইউনিস তিরাউই তাঁর এক্স হ্যান্ডলে প্রথম এই ছবি প্রকাশ করেন। দক্ষিণ লেবাননের খ্রিস্টান অধ্যুষিত দেবেল শহরের একটি গির্জার সামনে যীশুর মূর্তি হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে ভাঙতে দেখা যায় এক ইজরায়েলি সেনাকে! ছবিটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রথমে টালবাহানা করা হলেও, পরে ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (IDF) স্বীকার করে নেয় যে ওই সেনা তাদেরই কর্মী! সাংবাদিক তিরাউই ছবিটির সঙ্গে বাইবেলের মর্মস্পর্শী সেই লাইন উদ্ধৃত করেন - ‘পিতা, এদের ক্ষমা কর; কারণ এরা জানে না এরা কী করছে!’

২০০১ সালে বামিয়ানে বুদ্ধের বিশাল মূর্তি ধ্বংস করার সময় তালিবানি যে উগ্রতা সারা পৃথিবী দেখেছিল, আজ লেবাননে ইজরায়েলি সেনার আচরণে সেই একই 'সংস্কৃতি বিনাশী' মানসিকতা খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে। সমাজমাধ্যমে এ নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। নেটিজেনদের একাংশ স্পষ্ট ভাষায় লিখছেন, "তালিবান আর ইজরায়েলি সেনার মধ্যে এখন শুধু উর্দির তফাত, চিন্তাধারা একইরকমের উগ্র এবং অবমাননাকর।"


অন্য এক নেট ব্যবহারকারীর মন্তব্য, "যাঁরা সভ্যতার দাবি করেন, তাঁরা যখন অন্য ধর্মের পবিত্র প্রতীক হাতুড়ি দিয়ে ভাঙেন, তখন তাঁদের মুখোশ খুলে যায়!"

বিশ্বজুড়ে 'বর্বর' তকমা পাওয়ার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে আইডিএফ। মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি দাবি করেছেন, "এই ধরনের কর্মকাণ্ড আইডিএফ-এর মূল্যবোধের পরিপন্থী।" তবে, তারা তদন্তের আশ্বাস দিলেও এই ছবি যে ইজরায়েলের ভাবমূর্তিকে তালিবানি স্তরে নামিয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।


যেকোনও ধর্মের পবিত্র চিহ্নের উপর এমন পরিকল্পিত হামলা শুধু যুদ্ধের নীতি লঙ্ঘন নয়, বরং চরম অসহিষ্ণুতার প্রতীক হিসাবেই দেখছে বিশ্ববাসী।

বিষয় : lebanonwar jesusstatue internationaloutrage religiouscoexistence

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


যীশুর মূর্তি ভাঙল ইজরায়েলি সেনা! বামিয়ানের তালিবানি বর্বরতার ছায়া লেবাননে? বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়

প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
বেইরুট: ইতিহাসের চাকা কি তবে উল্টো দিকে ঘুরছে? কয়েক দশক আগে আফগানিস্তানের বামিয়ানে ডিনামাইট দিয়ে বুদ্ধমূর্তি উড়িয়ে তালিবানি যে বর্বরতার সাক্ষী হয়েছিল বিশ্ব, আজ দক্ষিণ লেবাননের মাটিতে যেন তারই পুনরাবৃত্তি ঘটাল ইজরায়েলি সেনা! তাদেরই এক সদস্যের এক হাতে বন্দুক আর অন্য হাতে হাতুড়ি নিয়ে যীশু খ্রিস্টের মূর্তি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ছবি ভাইরাল হতেই শিউরে উঠছে আন্তর্জাতিক মহল। প্রশ্ন উঠছে, উগ্র মৌলবাদী তালিবান আর আধুনিক ইজরায়েলি সেনার মধ্যে তবে কি আর কোনও ফারাক রইল না?প্যালেস্তিনীয় সাংবাদিক ইউনিস তিরাউই তাঁর এক্স হ্যান্ডলে প্রথম এই ছবি প্রকাশ করেন। দক্ষিণ লেবাননের খ্রিস্টান অধ্যুষিত দেবেল শহরের একটি গির্জার সামনে যীশুর মূর্তি হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে ভাঙতে দেখা যায় এক ইজরায়েলি সেনাকে! ছবিটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রথমে টালবাহানা করা হলেও, পরে ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (IDF) স্বীকার করে নেয় যে ওই সেনা তাদেরই কর্মী! সাংবাদিক তিরাউই ছবিটির সঙ্গে বাইবেলের মর্মস্পর্শী সেই লাইন উদ্ধৃত করেন - ‘পিতা, এদের ক্ষমা কর; কারণ এরা জানে না এরা কী করছে!’২০০১ সালে বামিয়ানে বুদ্ধের বিশাল মূর্তি ধ্বংস করার সময় তালিবানি যে উগ্রতা সারা পৃথিবী দেখেছিল, আজ লেবাননে ইজরায়েলি সেনার আচরণে সেই একই 'সংস্কৃতি বিনাশী' মানসিকতা খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে। সমাজমাধ্যমে এ নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। নেটিজেনদের একাংশ স্পষ্ট ভাষায় লিখছেন, "তালিবান আর ইজরায়েলি সেনার মধ্যে এখন শুধু উর্দির তফাত, চিন্তাধারা একইরকমের উগ্র এবং অবমাননাকর।"অন্য এক নেট ব্যবহারকারীর মন্তব্য, "যাঁরা সভ্যতার দাবি করেন, তাঁরা যখন অন্য ধর্মের পবিত্র প্রতীক হাতুড়ি দিয়ে ভাঙেন, তখন তাঁদের মুখোশ খুলে যায়!"বিশ্বজুড়ে 'বর্বর' তকমা পাওয়ার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে আইডিএফ। মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি দাবি করেছেন, "এই ধরনের কর্মকাণ্ড আইডিএফ-এর মূল্যবোধের পরিপন্থী।" তবে, তারা তদন্তের আশ্বাস দিলেও এই ছবি যে ইজরায়েলের ভাবমূর্তিকে তালিবানি স্তরে নামিয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।যেকোনও ধর্মের পবিত্র চিহ্নের উপর এমন পরিকল্পিত হামলা শুধু যুদ্ধের নীতি লঙ্ঘন নয়, বরং চরম অসহিষ্ণুতার প্রতীক হিসাবেই দেখছে বিশ্ববাসী।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার