তেহরান: ইজরায়েলি গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল করল ইরান। চরবৃত্তি এবং যুদ্ধ চলাকালীন দেশের গোপন নথি তেল আভিভের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগে দুই যুবককে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিল তেহরানের আদালত। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘মিজান’-এর দাবি, এই দুই ঘাতক মোসাদের নীলনকশা মেনে ইরানকে রক্তাক্ত করার পরিকল্পনা করেছিল!
সাজাপ্রাপ্ত দুই যুবকের নাম মহম্মদ মাসুম শাহী এবং হামেদ ভালিদী। তদন্তে উঠে এসেছে, দীর্ঘ সময় ধরে তারা মোসাদের প্রত্যক্ষ সংযোগে ছিল। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তাদের গতিবিধি আরও বাড়ে। তেহরানের দাবি, ইরানের যুদ্ধকৌশল এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত অত্যন্ত স্পর্শকাতর নথি তারা ইজরায়েলের হাতে পৌঁছে দিয়েছিল। এমনকী, চরবৃত্তি করার জন্য ইরাকের কুর্দিস্তান-সহ বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় এই দুই যুবক কড়া প্রশিক্ষণ নিয়েছিল বলেও দাবি করেছে ইরানি প্রশাসন। তাদের বিরুদ্ধে ‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে শত্রুতা’ এবং শত্রু রাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার মতো গুরুতর ধারায় মামলা আনা হয়। ইরানের সর্বোচ্চ আদালত দুজনকেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের আঁচও এখন আদালতের কাঠগড়ায়। সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ‘শাস্তি’ হিসাবে চারজনকে ফাঁসির সাজা শুনিয়েছে তেহরান। এদের মধ্যে রয়েছেন বিটা হেম্মাতি নামে এক মহিলা। ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও মহিলাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হল।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলি এই গণ-মৃত্যুদণ্ডের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, দেশজুড়ে আন্দোলনের কণ্ঠরোধ করতে এবং সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করতেই মৃত্যুদণ্ডকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে ইরানের সরকার। পরিসংখ্যান বলছে, বিক্ষোভের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে ইরানের এই কড়া আইনি পদক্ষেপ ইজরায়েল ও পশ্চিমী দেশগুলির সঙ্গে তেহরানের সংঘাতকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন