পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আবহে আকাশবাণী ও দূরদর্শনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ ঘিরে দানা বেঁধেছে তীব্র বিতর্ক। প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণকে আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধির সরাসরি লঙ্ঘন বলে অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন দেশের প্রায় ৭০০ জন বিশিষ্ট নাগরিক।
অভিযোগকারীদের মধ্যে রয়েছেন দিল্লির প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট গভর্নর নজীব জং, রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ পারাকালা প্রভাকর, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, অর্থনীতিবিদ জয়তী ঘোষ এবং সংগীতশিল্পী টিএম কৃষ্ণের মতো ব্যক্তিত্বরা। তাঁদের দাবি, ভোটের সময় জাতীয় প্রচার মাধ্যম ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী এভাবে রাজনৈতিক বার্তা দিতে পারেন না, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিপন্থী।
গত শুক্রবারের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী সংসদে মহিলা বিল পাশ না হওয়ার জন্য কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলিকে তীব্র আক্রমণ করেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ‘ভ্রুণ হত্যা’র মতো গুরুতর অভিযোগ আনেন। বিশিষ্টজনদের মতে, পশ্চিমবঙ্গ, অসম, তামিলনাড়ু, কেরল ও পুদুচেরিতে যখন ভোট প্রক্রিয়া চলছে, তখন সরকারি যন্ত্র ও প্রচার মাধ্যমকে ব্যবহার করে বিরোধীদের কাঠগড়ায় তোলা সম্পূর্ণ অনৈতিক। যদিও সরকারি একটি মহলের দাবি, কমিশনকে জানিয়েই এই ভাষণ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কমিশন এই বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি বিবৃতি দেয়নি।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পাঠানো চিঠিতে বিশিষ্টরা প্রশ্ন তুলেছেন, সংসদ টিভির মতো নিরপেক্ষ মাধ্যমকেও কেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হলো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও এমকে স্ট্যালিনের মতো বিরোধী নেতার আগে থেকেই এই নিয়ে সরব হয়েছিলেন, এবার বিশিষ্ট নাগরিকদের এই গণ-চিঠি কমিশনের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিল।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন