প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্য গুজরাটে পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর পুলিশের ব্যাপক লাঠিচার্জের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। রবিবার সুরাটের উধনা স্টেশনে ট্রেন ধরার হুড়োহুড়ির সময় পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর লাঠি উঁচিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে পুলিশ।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, পুলিশের নির্মম প্রহার থেকে বাঁচতে শ্রমিকরা মালপত্র ফেলে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ছুটছেন, এমনকি প্রাণ বাঁচাতে লোহার রড টপকেও পালাতে দেখা গিয়েছে অনেককে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে এলপিজির আকাশছোঁয়া দাম এবং তীব্র সংকটের জেরে সুরাটের বস্ত্রশিল্পে ধস নেমেছে। কয়েক লক্ষ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। প্রায় ৩ লক্ষ শ্রমিক ইতিমধ্যেই কাজ হারিয়ে গ্রামমুখী হয়েছেন। রবিবার উত্তরপ্রদেশ ও বিহারগামী বিশেষ ট্রেন ধরার জন্য স্টেশনে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। প্রবল গরম আর দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ক্লান্তিতে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই লাঠিচার্জ করা হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, রুটিরুজি হারিয়ে অসহায় পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর এই নির্মম আচরণ কতটা যুক্তিযুক্ত? গ্যাসের অভাবে সুরাটের টেক্সটাইল কারখানাগুলোতে উৎপাদন ৩০ শতাংশ কমে গিয়েছে। যেখানে দিনে ১৫ হাজার সিলিন্ডার প্রয়োজন, সেখানে জোগান তলানিতে। ফলে শ্রমিকরা বাধ্য হয়েই বাড়ির পথে রওনা দিয়েছেন।
রেল আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ভিড় সামাল দিতে জয়নগর ও মধুবনির উদ্দেশ্যে বিশেষ ট্রেন চালানো হচ্ছে। কিন্তু সুরাটের এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এবং পুলিশের লাঠিচার্জ ফের একবার পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তার অভাবকে সামনে এনে দিয়েছে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং সোশাল মিডিয়ায় এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নেটিজেনরা।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন