নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের আকাশছোঁয়া দাম মোকাবিলায় এবার আমূল বদল আসতে চলেছে ভারতের জ্বালানি নীতিতে। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে ই২০ (২০% ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল) বাধ্যতামূলক করার পর এবার কেন্দ্রের পরবর্তী লক্ষ্য ‘ই৮৫’ (E85)। অর্থাৎ, এবার থেকে গাড়ির জ্বালানিতে থাকবে ৮৫ শতাংশ ইথানল এবং মাত্র ১৫ শতাংশ পেট্রল।
সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক ইতিমধ্যেই ‘E85’ জ্বালানি চালুর জন্য খসড়া নীতিমালা বা ড্রাফট পলিসি তৈরি করে ফেলেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি এবং গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনাও শেষ। সরকারের শীর্ষস্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, জ্বালানি আমদানিতে বিদেশি মুদ্রার সাশ্রয় এবং পরিবেশ দূষণ কমাতেই এই সাহসী পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
তবে, সাধারণ মানুষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হল - ইঞ্জিনের সামঞ্জস্য। বর্তমান বাজারে থাকা সাধারণ পেট্রল ইঞ্জিন ৮৫ শতাংশ ইথানল সহ্য করতে পারবে না। এর জন্য প্রয়োজন হবে ‘ফ্লেক্স-ফুয়েল’ (Flex-Fuel) ইঞ্জিন। গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই এই ধরনের ইঞ্জিনের প্রোটোটাইপ তৈরি শুরু করেছে। সরকারের দাবি, এই জ্বালানি ব্যবহারে ইঞ্জিনের আয়ু বাড়ার পাশাপাশি কার্বন নির্গমন প্রায় ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পাবে।
পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আবহে জ্বালানি সুরক্ষা ভারতের কাছে এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। যদিও E85 জ্বালানি দেশজুড়ে পাম্পে সহজলভ্য হতে আরও প্রায় দু-বছর সময় লাগতে পারে। তবে, কেন্দ্র স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ‘ইথানল বিপ্লব’-ই হতে চলেছে আগামী দিনের পথ। ই২০-র পর এবার সরাসরি ই৮৫-এর দিকে ভারতের এই যাত্রা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ভারতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলেও কেন্দ্রের তরফে দাবি করা হচ্ছে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন