কলকাতা: প্রথম দফার ভোটের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে এবার সরাসরি পুলিশের উপর রাশ টানল নির্বাচন কমিশন। ‘সাইলেন্স পিরিয়ড’ চলাকালীন কোনওভাবেই যাতে কোনও নিয়ম লঙ্ঘন না করা হয়, তার জন্য এবার প্রতিটি থানার ওসি-র কাছ থেকে লিখিত প্রতিশ্রুতি বা শংসাপত্র তলব করল কমিশন! আজ - অর্থাৎ - মঙ্গলবার রাত ৯টার মধ্যেই রাজ্যের সব জেলার পুলিশ সুপারকে এই মর্মে রিপোর্ট জমা দিতে হবে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরে।
জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-র ১২৬ ধারা মেনে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকেই রাজ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে ‘সাইলেন্স পিরিয়ড’। আগামী ২৩ এপ্রিল ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা - কোনও অফিসার যদি দায়িত্বে গাফিলতি করেন বা পক্ষপাতিত্বের পরিচয় দেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে চরম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কমিশনের জারি করা সাইলেন্স পিরিয়ডের কড়া পাঁচ নিয়ম:
১. বহিরাগতদের বিদায়: যাঁরা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোটার নন, তাঁদের অবিলম্বে এলাকা ছাড়তে হবে।
২. নাকাতল্লাশি: জেলা ও রাজ্যের সীমানায় নজরদারি বাড়িয়ে বেআইনি অনুপ্রবেশ রুখতে হবে।
৩. লজ-গেস্ট হাউসে হানা: বহিরাগত রাজনৈতিক কর্মীদের শনাক্ত করতে হোটেল, লজ এবং ধর্মশালাগুলিতে নিয়মিত চেকিং চালাতে হবে।
৪. ফোর্সের সক্রিয়তা: ফ্লাইং স্কোয়াড এবং কিউআরটি-কে প্রতি মুহূর্তে সজাগ থাকতে হবে।
৫. সংবাদমাধ্যমে বিধিনিষেধ: টিভি চ্যানেল বা রেডিয়ো-র আলোচনায় এমন কোনও মন্তব্য করা যাবে না, যা ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে।
একই সঙ্গে কমিশন মনে করিয়ে দিয়েছে, গত ৯ এপ্রিল থেকে শুরু করে আগামী ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত যেকোনও ধরনের ‘বুথফেরত সমীক্ষা’ বা এক্সিট পোল প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই নির্দেশ অমান্য করলে সর্বোচ্চ দু’বছর পর্যন্ত জেল বা মোটা টাকা জরিমানা হতে পারে।
প্রথম দফার ১৫২টি আসনে স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করানোই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। পুলিশের উপর এই ‘লিখিত দায়বদ্ধতা’র চাপ ভোটের ময়দানে কতটা নিরপেক্ষতা বজায় রাখে, সেটাই এখন দেখার।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন