কলকাতা: রাজ্যে প্রথম দফার ভোটের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মহাযুদ্ধের আবহ! বাংলার ভোটাররা যাতে ‘ভয়মুক্ত’ পরিবেশে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে রাজভবনে (বর্তমানে যা লোকভবন নামে পরিচিত) ২৪x৭ নাগরিক হেল্পলাইন চালু করলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। মঙ্গলবার থেকেই এই পরিষেবা চালু করা হয়েছে। তবে, ভোটের আবহে রাজ্যপালের এই সক্রিয়তাকে আগেই ‘এজেন্ডা’ এবং ‘উস্কানিমূলক’ বলে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনও বাধা বা ভয় দেখানো হলে নাগরিকরা সরাসরি রাজভবনের নম্বরে অভিযোগ জানাতে পারবেন। এই নম্বরগুলি হল: ০৩৩-২২০০-১০২২, ১০২৩, ১০২৫, ১০২৬, ১০২৭, ১০২৮ এবং ১০২৯। রাজ্যপালের মতে, রাজ্যের তফসিলি সম্প্রদায়ের মানুষ আজও বাহুবলী ও সিন্ডিকেটের শিকার হচ্ছে। উল্লেখ্য, এর আগে বাংলার হারানো গৌরব ফেরাতে এবং শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে যুবসমাজকে ‘পরিবর্তনের’ অংশীদার হওয়ার ডাক দিয়েছেন তিনি।
রাজ্যপালের সেই মন্তব্য ও উদ্যোগকে ভালোভাবে নেয়নি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এমনকী খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না করে রাজ্যপালকে 'লাটসাহেব'বলে তোপ দেগে ছিলেন! মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা ছিল, ভোটের মুখে এভাবে বিতর্কিত মন্তব্য করে উস্কানি দেওয়া বন্ধ করা উচিত।
প্রাক্তন আইপিএস অফিসার আর এন রবি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শিক্ষা ও শিল্প নিয়ে নবান্নকে বারবার বিঁধেছেন। এবার সরাসরি নির্বাচনের ময়দানে রাজভবনের এই ‘হস্তক্ষেপ’ নিয়ে সংঘাত অন্য মাত্রা পেল। জগদীপ ধনখড় বা সি ভি আনন্দ বোসের জমানাতেও রাজভবনের সঙ্গে নবান্নের সংঘাত দেখা গিয়েছিল। সেই অতীত প্রেক্ষাপটে ভোটের আগে এই হেল্পলাইন চালু বঙ্গ রাজনীতিতে বড়সড় জল্পনা উস্কে দিল।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন